দাওয়াতি সফরনামা: একত্রে ২৪ ঘণ্টার জামাতের অভিজ্ঞতা

দাওয়াতি সফরনামা: একত্রে ২৪ ঘণ্টার জামাতের অভিজ্ঞতা

আলহামদুলিল্লাহ, গত রবিবার থেকেই আমি জামাতের মধ্যে আওয়াজ তুলেছি যে, এই সপ্তাহে আমরা ২৪ ঘণ্টার জামাতে বের হবো। প্রথমে একা একা একেকজনকে তাশকিল করা শুরু করি। কেউ রাজি হয়েছে, কেউ হয়নি। এভাবেই সোম, মঙ্গল, বুধবার কেটে বৃহস্পতিবার চলে আসে।

ইতোমধ্যে অনেক ভাই প্রস্তুত হয়ে যান, এবং নামও চলে আসে। যেমন — সুহাইল ভাই তো আগেই বলেছিলেন, “ভাই, এই সপ্তাহে আমি অবশ্যই যাবো।” আনাস ভাই নাম লিখে নেওয়া শুরু করেন। এরপর ইয়াকুব ফাহাদ সাহেব বৃহস্পতিবারের দরস শেষে এই বিষয়টি নিয়ে বয়ান করেন এবং তাশকিল করেন। তখনই তিনি রাজি করান আমাদের মহব্বতের ছোট ভাই জাহিদকে এবং হুজুরের ঘনিষ্ঠ সাগর আলী ভাইকেও।

এভাবে একে একে আমরা ১৪ জন ভাই প্রস্তুত হয়ে যাই। দুপুরের খাবারের পর আমরা রওনা হই। আমাদের সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন: আমির সাহেব ইয়ামিন ভাই, সাগর আলী ভাই, সাব্বির, সাকফান, জুবায়ের ভাই, আমি, আনাস ভাই, সুহাইল ভাই, মুস্তাকিম ভাই, সাজ্জাদ ভাই, সাইফুল ভাই, মাহমুদ ভাই,আশিক ভাই,লুৎফুর রহমান ভাই।

আমাদের গন্তব্য ছিল সরকারপাড়া জামে মসজিদ, মুড়াপাড়া। আমরা বেডিংপত্র গাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম, এবং পরে পায়ে হেঁটেই সেই মসজিদে পৌঁছাই। পরিবেশ ছিল ঠান্ডা, প্রশান্তিময় এবং পুরোপুরি মোয়াফিক—যার কারণে কোনো কষ্ট অনুভব হয়নি।

মসজিদে পৌঁছে আমরা পরামর্শ করি এবং সিদ্ধান্ত হয়—আমি ফজরের পর বয়ান করবো, আনাস ভাই গাস্তের আদব এবং ঈমান-ইয়াকীনের উপর কথা বলবেন, ইয়ামিন ভাই ঈমানী মেহনত নিয়ে বক্তব্য রাখবেন। সুহাইল ভাই মাগরিবের পর হৃদয়গ্রাহী বয়ান উপহার দেন।

আমাদের তিন বেলার খানা অত্যন্ত সুন্দর ছিল। রাতে ডিমের তরকারি ও ঠান্ডা পানি ছিল, সাথে আমার পক্ষ থেকে মিষ্টির আয়োজন ছিল। সকালে রুটি ও ভাজি, দুপুরে বিরানির দাওয়াত হয়। সবকিছুতেই ছিল ভাইদের আন্তরিকতা ও আপ্যায়নের ছাপ।

সফরটা শুধু দাওয়াতি ছিল না, একটি দীনী আনন্দময় ভ্রমণও ছিল। যেমন, জাহিদ ভাই ও আমি মাগরিবের পর গাউছিয়াতে যাই, পানসি রেস্টুরেন্ট থেকে ফালুদা খাই, মিষ্টিও কিনে আনি। এ অভিজ্ঞতা আমাদের ভাইদের মাঝে মহব্বত আরও বাড়িয়ে দেয়।

সেই মসজিদের মুয়াজ্জিন সাহেব ছিলেন এক প্রাজ্ঞ আলেম। তিনি আমাদের তাযকিয়ায়ে নফস এবং দ্বীনের খেদমত সম্পর্কে অত্যন্ত উপকারি ও গঠনমূলক নসিহত করেন।

সব মিলিয়ে এই সফর ছিল অনেক সুন্দর, ফলপ্রসূ এবং হৃদয়ছোঁয়া। দাওয়াত ও দ্বীনের কাজের ফাঁকে আমাদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব, সহযোগিতা ও ভালবাসার বন্ধন গড়ে উঠেছে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের এই মেহনত কবুল করুন, দ্বীনের খেদমতের তাওফিক দিন এবং আমাদের মধ্যে পরস্পরের মহব্বতকে আরও দৃঢ় করুন, আমীন।

— মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা

Comments

Popular posts from this blog

“দ্বীনের দীপ্তি: ইসলামের মূল শিক্ষা”

স্মৃতির প্রাঙ্গণ ও মাধুর্যের ঋণ

📘 প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি