সমাজে গোস্ত বিতরণ ও মসজিদের আদব

 

সমাজে গোস্ত বিতরণ ও মসজিদের আদব

রচয়িতা: মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা

আজ জুমার পূর্ব মুহূর্তে মসজিদের পবিত্র পরিবেশ হঠাৎ করেই ভিন্ন এক চেহারা ধারণ করে। কালকের ঈদের গোস্ত বিতরণ নিয়ে সমাজের মধ্যে কিছু মতবিরোধ দেখা দেয়। মূলত বিতরণে নিয়োজিত ব্যক্তিরা—যারা নিজে থেকেই কুরবানির গোশত গরীবের ঘরে পৌঁছে দেওয়ার এই মহান দায়িত্ব নিয়েছেন—তাঁরা গোশত নিতে পারবেন কি না, এ নিয়ে তর্ক ও আপত্তির সৃষ্টি হয়।

অনেকে বলছিলেন, বিতরণকারীরা যদি সমাজের ধনী শ্রেণিভুক্ত হন, তবে তাদের জন্য এই গোশত নেওয়া অনুচিত। আবার কেউ কেউ বলছিলেন, এই বিতরণকারীরা সকাল থেকে রোদে ঘেমে-নেয়ে পরিশ্রম করছেন, সেহেতু তাদের উপযুক্ত প্রাপ্য থাকা উচিত। এই দ্বিধা, বিতর্ক ও উত্তেজনা ক্রমেই বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে মসজিদের আদব ভঙ্গ করে চিল্লাচিল্লি শুরু হয়—যা একদিকে দুঃখজনক, অন্যদিকে আমাদের ঈমানি আত্মার জন্যও এক শিক্ষা।

ঠিক সেই মুহূর্তেই উঠে দাঁড়ান আমার বন্ধু ইমরানের বড় ভাই—শিক্ষক মইনুল ভাইয়া। তিনি দৃঢ় ও কোমল কণ্ঠে মাইকে বলেন, “ভাইয়েরা! আমরা এখন মসজিদে আছি, যেখানে আদব ও খুশু-খুযু বজায় রাখা আমাদের ঈমানের অংশ। আসুন, শান্ত থাকি।”

এরপর তিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করেন: “যেমন একজন যাকাত গ্রহণকারী শ্রমিক বৈধভাবে যাকাত খেতে পারেন, তেমনি যারা পরিশ্রম করছেন কুরবানির গোশত গরীবের ঘরে পৌঁছে দিতে—তাদেরকে যদি ভালোবাসা ও স্বীকৃতি স্বরূপ কিছু গোশত দেওয়া হয়, তাহলে তাতে ফেতনার কিছু নেই। বরং এটি হবে উৎসাহ, কৃতজ্ঞতা এবং ইসলামি ভাইচার প্রকাশ।”

তিনি বলেন, “চাইলে তাদের নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকও নির্ধারণ করে দেওয়া যেতে পারে, যাতে বিতরণ কাজটি ইবাদত ও ইনসাফের রূপ নেয়। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—সমাজে বিভেদ ও ফিতনা যেন শিকড় না গাড়ে। সমাজ আগে যেমন শান্ত ছিল, আগামীতেও যেন ভালোবাসা ও ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ থাকে।”

এই জ্ঞানগর্ভ ও হৃদয়স্পর্শী বক্তব্যে পরিবেশ শান্ত হয়ে আসে। সকলেই বুঝতে পারেন, মতবিরোধের মাঝে যেন ইখলাস ও আদব না হারিয়ে যায়।

Comments

Popular posts from this blog

“দ্বীনের দীপ্তি: ইসলামের মূল শিক্ষা”

স্মৃতির প্রাঙ্গণ ও মাধুর্যের ঋণ

📘 প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি