ইংরেজি শেখার এক বরকতময় সূচনা
ইংরেজি শেখার এক বরকতময় সূচনা
মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা
আলহামদুলিল্লাহ! পরম করুণাময়ের অশেষ কৃপায় মাদ্রাসার পাশেই এমন একটি ইংরেজি শেখার ক্যাম্পাস খুঁজে পেয়েছি, যা আমার জন্য সময় ও সুযোগের এক অনন্য সমন্বয়। সেখানে যাতায়াত আমার জন্য একেবারেই সহজ হওয়ায় আমি চাইলেই প্রতিদিন কিছুটা সময় দিতে পারি।
আমি যখন প্রথমবার ঐ ক্যাম্পাসে গিয়েছিলাম, তখন সেখানকার এক শিক্ষকের সঙ্গে দেখা হয়। তিনি বললেন, “আপনার যেসব সময় কোনো কাজে লাগে না, সেই অবশিষ্ট ২৫ থেকে ৩০ মিনিট এখানে ব্যয় করলে অন্তত ইংরেজি বানান শিখতে পারবেন।” কথাটা আমার হৃদয়ে দাগ কেটে যায়।
আমি ভাবলাম—আসরের পরের সময়টা এমনিতেই নীরব-নিশ্চুপভাবে অথবা গল্পগুজবে কেটে যায়। এই সময় যদি আমি সামান্য ইংরেজি শেখায় ব্যয় করি, তাহলে সেটা সময়ের সঠিক ব্যবহার হবে ইনশাআল্লাহ। তাই আমি ঠিক করলাম, প্রতিদিন আসরের পর ২৫-৩০ মিনিট সেই ক্যাম্পাসে যাব।
তবে একথা আমি স্পষ্টভাবে মনে রেখেছি—ইংরেজি শেখা আমার মূল উদ্দেশ্য নয়; বরং এটা একটি অতিরিক্ত চেষ্টা, যাতে সময়ের সদ্ব্যবহার হয়। তাই ইংরেজি শেখার জন্য আমি কখনো আমার মূল পড়াশোনাকে উপেক্ষা করছি না। বরং আমি এমনভাবে সময় ভাগ করে নিয়েছি যেন আমার আসল পড়া—দ্বীনী তালিম ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
আমি ইতিমধ্যে কিছু কিছু ইংরেজি শেখা শুরু করেছি। খুব ধীরে ধীরে, কিন্তু নিরবচ্ছিন্নভাবে। আমি চাচ্ছি অন্তত বানান ও উচ্চারণগুলো শিখতে পারি, যেন সাধারণ কথাবার্তা কিছুটা হলেও বুঝতে পারি। সময় তো এমনিতেই চলে যায়—যদি এই সময়েও কিছু না শিখি, তবে একেবারে ফাঁকা হাতে থাকা কেমন কথা!
আল্লাহ তাআলা যেন এই সামান্য প্রচেষ্টাটুকু তাঁর দরবারে কবুল করে নেন। এই সামান্য সময়টুকু যেন আমার জন্য উপকারী ও বরকতময় হয়, এটাই আমার প্রার্থনা। আমি জানি, ইংরেজি শেখার মাধ্যমে হয়তো আমি দুনিয়াবি কিছু লাভ করব, কিন্তু আমার আসল লক্ষ্য দ্বীন শিখা ও প্রচার করা—এই লক্ষ্য কখনোই যেন ভোলার না হয়।
পরিশেষে, আমি সকল ভাইদের প্রতি অনুরোধ করবো—যাদের সময়ের কিছু অংশ ফাঁকা থাকে, তারা যেন সেটা কাজে লাগায়। বিশেষ করে যারা দ্বীনী ছাত্র, তাদের উচিত নিজের সীমার মাঝে থেকেই কিছু সাধারণ দক্ষতা অর্জন করা। তবে অবশ্যই মূল লক্ষ্য যেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়—সেই দিকেই রাখতে হবে সবচেয়ে বেশি খেয়াল।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকল প্রচেষ্টাকে কবুল করুন। আমিন।
Comments
Post a Comment