ছুটির সময় তালেবে ইলমের করণীয়

 ছুটির সময় তালেবে ইলমের করণীয়

মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি

আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের মাদ্রাসাগুলোতে বিভিন্ন সময়ে ছুটি প্রদান করা হয়, যেমন কুরবানির ছুটি, প্রথম ও দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার পরবর্তী ছুটি এবং রমজানের ছুটি। এই সময়গুলো তালেবে ইলমদের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ, যাতে তারা আত্মশুদ্ধি, পরিবার ও সমাজের খেদমত এবং ইলম অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের উন্নত করতে পারে।

১. নামাজ ও কুরআন তিলাওয়াতের প্রতি যত্নবান হওয়া

ছুটির সময় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা এবং নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করা উচিত। এটি আত্মার প্রশান্তি এনে দেয় এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের পথ সুগম করে।

২. মা-বাবার খেদমত করা

মা-বাবার খেদমত করা সন্তানের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। ছুটির সময় তাদের সাথে সময় কাটানো, তাদের প্রয়োজনীয় কাজে সাহায্য করা এবং তাদের প্রতি সদ্ব্যবহার করা উচিত।

৩. পরিবারের সদস্যদের দ্বীনি শিক্ষা প্রদান

পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে যারা কুরআন পড়তে পারেন না বা সঠিক উচ্চারণ জানেন না, তাদেরকে কুরআন শিক্ষা দেওয়া এবং দ্বীনি বিষয়ে সচেতন করা তালেবে ইলমের দায়িত্ব।

৪. মসজিদ ও সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ

মসজিদে নিয়মিত যাওয়া, তালিমের হালকায় অংশগ্রহণ করা এবং সমাজের মানুষের সাথে দ্বীনি আলোচনা করা উচিত। এটি সমাজে ইসলামের বার্তা পৌঁছাতে সাহায্য করে।

৫. পর্দার প্রতি যত্নবান হওয়া

ছুটির সময় আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সাক্ষাৎ করার সময় পর্দার নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি আত্মশুদ্ধি এবং ইসলামের আদর্শ রক্ষার জন্য অপরিহার্য।

৬. গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা

ছুটির সময় ফেসবুক, ইউটিউব, সিনেমা ইত্যাদি থেকে দূরে থাকা উচিত। এগুলো সময় নষ্ট করে এবং গুনাহের পথে নিয়ে যায়।

৭. পড়াশোনার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা

ছুটির সময়ও নিয়মিত কিতাব পড়া, মুতালাআ করা এবং পূর্বে পড়া বিষয়গুলো পুনরাবৃত্তি করা উচিত। এটি ইলমে অগ্রগতি নিশ্চিত করে।

সতর্কবার্তা: ছুটির সময় গুনাহের পথে না গিয়ে, ইবাদত, খেদমত এবং ইলম অর্জনের মাধ্যমে সময় কাটানো উচিত। এটি দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতার পথ।

Comments

Popular posts from this blog

“দ্বীনের দীপ্তি: ইসলামের মূল শিক্ষা”

স্মৃতির প্রাঙ্গণ ও মাধুর্যের ঋণ

📘 প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি