বাজি ধরার শরয়ী হুকুম ও বাস্তব জীবনের একটি ঘটনা

 বাজি ধরার শরয়ী হুকুম ও বাস্তব জীবনের একটি ঘটনা

মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি 

আজ ঈদের দিন। ফজরের নামাযের পর আমি যখন মসজিদে দাঁড়িয়ে সাকিবের সঙ্গে দেখা করলাম, সে আমার কাছে এসে বলল,

“ভাই, আমরা তো ক্রিকেট খেলায় জিতেছি। আমি ৮০ টাকা পেয়েছি!”

আমি তার কথা শুনে মুচকি হেসে বললাম:

“শোনো সাকিব, এই ব্যাপারটা তুমি হয়তো মজা করে করছ, কিন্তু শরীয়তের দৃষ্টিতে ব্যাপারটা গম্ভীর।”

⚖️ শরীয়তের দৃষ্টিতে বাজি ধরা

বাজি ধরা বা জুয়া হল এমন এক ধরনের লেনদেন, যেখানে এক পক্ষ হারিয়ে ফেলে এবং অপর পক্ষ লাভবান হয়, কিন্তু তা বৈধ লেনদেনের মাধ্যমে নয়। এই কাজটি শরীয়তে হারাম ও কবীরা গুনাহ।

📖 কুরআনের দলিল

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ... رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ
"হে ঈমানদারগণ! মদ, জুয়া... এগুলো শয়তানের কাজ। তা থেকে বিরত থাকো।" (সূরা আল-মায়িদাহ ৫:৯০)

🕋 হাদীসের দলিল

"من أكل مال أخيه بغير حق، أكله جمراً يوم القيامة"
(جاء في السنن الكبرى للبيهقي)

অর্থ: “যে ব্যক্তি অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে খায়, কিয়ামতের দিন সে আগুন খাবে।”

📚 পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ থেকে দলিল (৫০০ হিজরির পূর্বে)

  • المبسوط للإمام السرخسي (ج ١٢، ص ٣٠): “القمار محرم بكل أنواعه، حتى في اللهو المباح.”
  • الأم للإمام الشافعي (ج ٦، ص ٢٢٩): “ولا يحل أن يأخذ أحد من الآخر شيئًا إلا بطريق مشروع.”
  • الموطأ للإمام مالك: جاء عنه التشديد في المسابقة التي لا تكون في الرماية والخيل.

🧠 উসূল ও কাওয়াইদুল ফিকহ

  • الضرر يزال - "ক্ষতি অপসারণ করা ফরজ।"
  • ما أدى إلى الحرام فهو حرام - "যা হারামের দিকে নিয়ে যায়, তা-ও হারাম।"
  • كل قرض جر نفعاً فهو ربا - "যে ঋণ উপকার আনে, তা সুদে পরিণত হয়।"

⚠️ মাসআলা

খেলার মধ্যে বাজি ধরলে সেটা “قمار” তথা জুয়ার অন্তর্ভুক্ত হয়। এতে হার-জিতের ভিত্তিতে টাকা লেনদেন বৈধ নয়। একমাত্র তীরন্দাজি, ঘোড়দৌড় এবং শরীয়ত অনুমোদিত খেলাধুলায় উভয় পক্ষ না দিয়ে একজন তৃতীয় পক্ষ দিলে সেটা বৈধ হতে পারে। (নেসায়ী, আহমাদ)

Comments

Popular posts from this blog

“দ্বীনের দীপ্তি: ইসলামের মূল শিক্ষা”

স্মৃতির প্রাঙ্গণ ও মাধুর্যের ঋণ

📘 প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি