কুরবানী ঈদের দিন: করণীয় ও বর্জনীয়
কুরবানী ঈদের দিন: করণীয় ও বর্জনীয়
ভূমিকা
ঈদুল আজহা মুসলমানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। এই দিনে আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু কুরবানী করি এবং তাঁর আদেশ পালন করি। এই দিনটি কেবল আনন্দ ও উৎসবের নয়, বরং আত্মত্যাগ, সহানুভূতি এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশের দিন। সঠিকভাবে এই দিনটি পালন করা আমাদের ঈমানের অংশ।
ঈদের দিনের করণীয়
- গোসল করা: ঈদের নামাজের আগে গোসল করা সুন্নত।
- সুগন্ধি ব্যবহার: উত্তম পোশাক পরিধান করা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নত।
- তাকবির পাঠ: ঈদের দিন তাকবির পাঠের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলাকে বেশি বেশি স্মরণ করা সুন্নত। পুরুষেরা উঁচু আওয়াজে, নারীরা নীরবে পাঠ করবে।
- ঈদের নামাজ: ঈদের নামাজ আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ।
- কুরবানী করা: সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের জন্য কুরবানী করা ওয়াজিব।
- গোশত বণ্টন: কুরবানীর গোশত তিন ভাগে ভাগ করে নিজে খাওয়া, আত্মীয়-স্বজন ও গরিবদের মধ্যে বণ্টন করা উত্তম।
- পরিবেশ রক্ষা: কুরবানীর পর রক্ত, আবর্জনা ও হাড় নিরাপদ দূরত্বে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে দিয়ে পরিবেশ দূষণ রোধ করা উচিত।
- শুভেচ্ছা বিনিময়: ছোট-বড় সবার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা সুন্নত।
- পরিবার ও আত্মীয়দের সঙ্গে সময় কাটানো: পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া ও আনন্দ করা, আত্মীয়স্বজনদের খোঁজখবর নেওয়া এবং কারও সঙ্গে শত্রুতা ও মনোমালিন্য থাকলে তা ভুলে যাওয়া উচিত।
ঈদের দিনের বর্জনীয়
- রোজা রাখা: ঈদের দিনে রোজা রাখা হারাম। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন।
- ঈদের নামাজের আগে ও ফজরের নামাজের পরে কোনো নামাজ নেই: এই সময়ে অতিরিক্ত নামাজ পড়া নিষিদ্ধ।
- আজান ও ইকামত: ঈদের নামাজের কোনো আজান ও ইকামত নেই।
- কবর জিয়ারতের বিশেষ দিন মনে করা: ঈদের দিনকে কবর জিয়ারতের বিশেষ দিন মনে করে জিয়ারত করা বিদআত। তবে পূর্বনির্ধারিত রুটিন ছাড়া হঠাৎ সুযোগ হলে একাকী জিয়ারত করলে দোষ নেই।
- গান-বাজনা ও অবাধে নারী-পুরুষ বিচরণ: ঈদের দিন উপলক্ষে যেখানে গান-বাজনা, অবাধে নারী-পুরুষ বিচরণ ইত্যাদির আয়োজন থাকে—এমন মেলা আয়োজন করা, অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা দেওয়া যাবে না।
- কুরবানীর অংশ বিক্রি: কুরবানীর গোশত, চামড়া ও এর কোনো অংশ বিক্রি করা যাবে না। এমনকি কসাইকে পারিশ্রমিক হিসেবে গোশত দেওয়া নিষিদ্ধ।
- অপচয় ও অপব্যয়: ঈদের দিনে অপচয় ও অপব্যয় করা উচিত নয়।
উপসংহার
ঈদুল আজহা আমাদের জন্য একটি আত্মশুদ্ধির সুযোগ। এই দিনে আমরা আমাদের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করি, আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করি এবং সমাজের দরিদ্রদের পাশে দাঁড়াই। সঠিকভাবে এই দিনটি পালন করলে আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করতে পারি।
Comments
Post a Comment