ইমরান ভাই
ইমরান ভাই
মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা
বহু আফসোস ও ব্যথা নিয়ে এই লেখাটি আমি লিখছি। হৃদয় যেন ভেঙে পড়েছে আমার, ভীষণ কষ্ট নিয়ে আমি এই শব্দগুলো টাইপ করছি।
আমাদের সিনিয়র বড় ভাই ইমরান ভাই, যিনি আমাদের থেকে প্রায় পাঁচ বছরের বড়, গত কয়েকদিন আগে এক মর্মান্তিক মোটরসাইকেল এক্সিডেন্টে মৃত্যুবরণ করেছেন। এই মৃত্যুর সংবাদ শুনে আমরা সকলে হতবাক! আমরা তো কখনো কল্পনাও করতে পারিনি যে আমাদের এই প্রিয় ভাই এত দ্রুত চলে যাবেন।
তাঁর সাথে জড়িয়ে আছে অগণিত স্মৃতি, ভালোবাসা, এবং মহব্বতের সম্পর্ক। তিনি ছিলেন মারকাজুল ইলমি ওয়াদ দাওয়াহ বাংলাদেশ এর তালেবে ইলম, একজন প্রকৃত দ্বীনদার ভাই, যিনি সদা হাস্যোজ্জ্বল ও খেদমতে অগ্রগামী ছিলেন।
তাঁর মৃত্যুর পর যখন আমি মাদানীনগর মাদ্রাসা গিয়েছিলাম, তাঁর দোকানটা দেখে চোখে পানি চলে এলো। দোকান পড়ে আছে, কিন্তু তিনি নেই। কম্পিউটার পড়ে আছে, প্রিন্টার পড়ে আছে, ক্যামেরা পড়ে আছে, এমনকি তাঁর প্রিয় চেয়ারটিও পড়ে আছে—কিন্তু সেই চেয়ারে আর তিনি বসেন না।
চারপাশের লোকেরা যখন তাঁর কথা বলল, প্রত্যেকের কণ্ঠে শুধু প্রশংসা। তিনি কখনো কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করেননি, ছিলেন অমায়িক, বিনয়ী, সবার খেদমতগার।
আমি স্পষ্ট মনে করতে পারি, যখন একবার ইজতেমার মাঠে আমার পা পুড়ে যায়, তখন এই ইমরান ভাইই আমার সর্বাত্মক খেদমত করেছিলেন। গোসল করানো, অজু করানো, খানা খাইয়ে দেওয়া—এমনকি রুমে শুইয়ে রাখাও—তাঁর আন্তরিকতা ছিল উদাহরণস্বরূপ।
তাঁর ওস্তাদ—জুরাইন হুজুর—ও বললেন, “ইমরান খুবই ভালো ছাত্র ছিল। দয়ালু, বিনয়ী, ওস্তাদ ও ছাত্রদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল।”
আজকের দিনে তাঁর মুখ মনে পড়ে, তাঁর সেই হাসিমাখা মুখ—যা আজ আর আমাদের মাঝে নেই। তবে আশা করছি, আল্লাহ তাআলা তাঁকে কবরেও হাসিমুখেই রাখবেন।
আমরা তাঁকে হারিয়েছি, কিন্তু তাঁর স্মৃতি আমাদের হৃদয়ে চির অম্লান। তাঁর ছোট্ট কন্যা সন্তান আর নববিবাহিত স্ত্রী—এই পরিবারটির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর দুঃচিন্তায় আছি। আল্লাহ যেন তাঁদের সাহস ও রিজিকের ব্যবস্থা করেন।
ইমরান ভাইয়ের এই আকস্মিক বিদায়ে আমাদের মারকাজুল ইলমি ওয়াদ দাওয়াহ বাংলাদেশ এর প্রতিটি ছাত্র, ওস্তাদ, এবং প্রিয়জন শোকে মুহ্যমান।
Comments
Post a Comment