মারকাযুল ইলমি ওয়াদ দাওয়াহ বাংলাদেশের আদর্শ দস্তরখানার এক জীবনঘনিষ্ঠ চিত্র
মারকাযুল ইলমি ওয়াদ দাওয়াহ বাংলাদেশের আদর্শ দস্তরখানার এক জীবনঘনিষ্ঠ চিত্র
বার: শুক্রবার
🔶 প্রারম্ভিক কথা
মারকাযুল ইলমি ওয়াদ দাওয়াহ বাংলাদেশ—এটি কোনো সাধারণ প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি হলো একটি স্বপ্ন, একটি আদর্শের প্রতিচ্ছবি। এই মারকাযের প্রতিটি দিক, প্রতিটি বিভাগ, এমনকি দস্তরখানাও হয়ে উঠেছে আদর্শের প্রতিমূর্তি। আমি আল্লাহর অসীম রহমতে ১২ বছর এই প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করেছি। এই দীর্ঘ সময়ে আমি শুধু একজন ছাত্র ছিলাম না, বরং আমি ছিলাম এই আদর্শিক বিপ্লবের এক নীরব সাক্ষী।
🔶 দস্তরখানার বৈশিষ্ট্য
এই মাদরাসার দস্তরখানা এমন এক আদর্শ প্রতিষ্ঠান, যার বর্ণনা দিতে গেলে সারা রাতও কম পড়ে। প্রতিটি খাবার পরিবেশনের পেছনে রয়েছে আখিরাতমুখী চিন্তা, রয়েছে সুন্নাহর অনুসরণ। দস্তরখানার প্রতিটি নিয়ম শুধু শরীরকে নয়, আত্মাকেও প্রশান্ত করে।
জুরাইন হুজুর নিজ হাতে এই দস্তরখানার ভিত্তি স্থাপন করেছেন। তিনি শুধু নীতিমালা দেননি, বরং নিজের ঘাম ও পরিশ্রম ঢেলে এই আদর্শ কাঠামো গড়ে তুলেছেন। তিনি ছাত্রদের জন্য যে ভালোবাসা ও দরদ ঢেলে দিয়েছেন, তা কেবল মহান আল্লাহই জানেন।
🔶 শৃঙ্খলার প্রতীক
যখন নতুন সেশন শুরু হয়, তখন একটি দস্তরখানার বৈঠক হয়। সেখানে সব ছাত্র একত্র হয় এবং হুজুর বলেন: "এই দস্তরখানা শুধু খাওয়ার জায়গা নয়, বরং এটি একটি রুহানী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।"
ছাত্রদের শিখিয়ে দেওয়া হয়, খাওয়ার সময় কেউ কোনো শব্দ করবে না, কোনো আলাপ হবে না, পুরো কামরা থাকবে নীরব। আমি নিজে ১২ বছর ধরে এই নিয়ম দেখেছি বাস্তবে কার্যকর হতে।
🔶 অপচয়মুক্ত খাদ্য পরিবেশ
খাওয়ার পর দেখা যায় একটি ভাতও পড়ে নেই, একটুকুও অপচয় হয় না। ভাত, হাড্ডি, দারুচিনি, মরিচ—সবই আলাদা করা হয়, কিন্তু ভাত খুঁজে পাওয়া যায় না অপচয়ের কারণে। এটাই মারকাযের ছাত্রদের সচেতনতা ও তাকওয়ার প্রমাণ।
🔶 জিকিরময় রান্নাঘর
আনোয়ার ভাই রান্না করেন জিকির করতে করতে—যেইখানে তরকারি হোক বা ভর্তা, সবই তৈরি হয় বরকতের সাথে। এটি শুধু রান্না নয়, এটি ইবাদতের একটি রূপ।
🔶 খেদমতের তৃপ্তি
১৫ জন করে এক দস্তরখানায় বসে। একজন হয় আমীর সাব ও বাকিরা হয় তার মামুর। প্রতিটি দস্তরখানায় রয়েছে দায়িত্ব, সহযোগিতা এবং ভালোবাসা।
🔶 শিক্ষক-ছাত্রের একতা
ওস্তাদরাও বোর্ডিংয়ের খাবারই খান, আলাদা কিছু নয়। তাদের নম্রতা ও একাত্মতা ছাত্রদের আত্মার খোরাক হয়ে দাঁড়ায়। ছাত্রদের কোনো অভিযোগে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া দেন হুজুর। একজন শিশুর চিরকুটেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
🔶 শেষ কথা হলো:
এই দস্তরখানা হলো এক আদর্শ জীবনপদ্ধতির প্রতিচ্ছবি। এটি শুধু খাবার নয়, এটি আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া, সুন্নাহর অনুসরণ ও ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধের এক বিস্ময়কর বাস্তবতা।
আমি মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা—এই দস্তরখানার গর্বিত একজন প্রাক্তন ছাত্র। আজ আমি সত্যিই গর্বিত, কারণ আমি এমন এক জায়গার সাক্ষী, যার উদাহরণ গোটা দুনিয়ার জন্য অনুকরণীয়।
Comments
Post a Comment