কুরবানীর বিরতিতে বাসায় গিয়ে করণীয় ও বর্জনীয়
কুরবানীর বিরতিতে বাসায় গিয়ে করণীয় ও বর্জনীয়
তালেবে ইলমের চারটি আত্মসমালোচনামূলক দিক
মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি
১. পরিবারের সাথে সম্পর্কের দুর্বলতা
বর্তমান সময়ে ছাত্রদের মধ্যে একটি গুরুতর রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা বাসায় গিয়ে মা-বাবার সাথে কথা বলি না, ভাই-ভাই কিংবা ভাই-বোনদের সাথে মিশি না। বাবা যদি এক রাস্তা দিয়ে হাঁটেন, আমি অন্য রাস্তা বেছে নিই। মা কিছু বললে বিরক্ত হই, রাগ করি। অথচ বন্ধুর কথা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনি ও মানি। এটা কিয়ামতের বড় আলামত। এরকম আচরণ থেকে আমাদের অবশ্যই বেঁচে থাকতে হবে।
২. চায়ের দোকানে আড্ডা ও সুন্নতি পোশাকে অবহেলা
আমরা তালিবে ইলম হয়েও চায়ের দোকানে বসে চা খাই, গল্প করি, খেলাধুলা দেখি, টিভি দেখি। অথচ মাথায় টুপি, গায়ে পাঞ্জাবি থাকে! কেউ কেউ বাসায় গেলে সুন্নতি পোশাকও পরে না। সুন্নতি লেবাস কেবল মাদরাসার জন্য—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। এরকম ছাত্র কখনো এলমের বরকত পায় না।
সমাজের লোকেরা তখন প্রশ্ন তোলে—তুমি যদি হুজুর হয়েও আমাদের মতো চা খাও, সিনেমা দেখো, তাহলে তোমার আলাদা মূল্য কী? আমাদের উচিত সমাজের সামনে সুন্দর পরিচয় উপস্থাপন করা। হুজুরের মতোই চলাফেরা করা।
৩. লজ্জাহীনতা ও হায়ার অভাব
আজ আমাদের মধ্যে হায়া বা লজ্জা প্রায় নেই বললেই চলে। অথচ হাদিসে এসেছে:
অর্থ: “লজ্জাশীলতা ঈমানের একটি শাখা।”
—সহীহ বুখারী: ৯, সহীহ মুসলিম: ৩৫
কিন্তু আমরা অনেকেই ইস্তেঞ্জার সময় বাথরুমে কথা বলি, একে অপরের সামনে সতর উন্মুক্ত করি, ঢিলা হাতে নিয়ে কথা বলি—এসব মারাত্মক গোনাহের কাজ। আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো ইস্তেঞ্জার জন্য অনেক দূরে চলে যেতেন যেন কেউ দেখতে না পায়। আমাদেরও এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
৪. অশোভন পোশাক ও সতরের অবহেলা
অনেকেই লজ্জাজনক পোশাক ঝুলিয়ে রাখে, কেউ শুধু পায়জামা পরে হাঁটাচলা করে, আবার কেউ ঘুমানোর সময় লুঙ্গি পরে—যার ফলে সতর ঢেকে থাকে না। এসব খুবই লজ্জাজনক এবং গর্হিত। আমাদের উচিত সতরের প্রতি যত্নবান হওয়া, সমাজে নিজের সম্মান রক্ষা করা।
যদি লুঙ্গি পরে ঘুমানোতে সতর প্রকাশের আশঙ্কা থাকে, তাহলে পায়জামা পড়ে ঘুমানো শ্রেয়। আলেম বা তালিবে ইলমের ক্ষেত্রে এসব বিষয়ে উদাসীনতা গ্রহণযোগ্য নয়।
Comments
Post a Comment