তালেবে ইলম তোমাকে,,

                     হে তালেবে ইলম তোমাকে 
               লেখক মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা 

আল্লাহ তাআলার প্রশংসা যে, তিনি তোমাকে ইলমের মতো দৌলত দান করেছেন। এই ইলম এত দামি যে, সবাইকে আল্লাহ সেটা দান করেন না।যাকে আল্লাহ দান করেন,আল্লাহ তার কল্যাণ চান। আল্লাহ তা'আলা কুরআনে এরশাদ করেছেন,,, يؤتي الحكمة من يشاء।এই ইলম একটা আমানত। যা আল্লাহ পাক জিব্রাইল আমিনের মাধ্যমে হুজুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্তরে ঢেলে দিয়েছেন। আসমান থেকে এই ইলম জিব্রাইল আমিন নিয়ে আসার মধ্যে কোনো হেরফের করেননি। এবং হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও এই আমানত উম্মতের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে কোন রকম খেয়ানত করেননি। যেভাবে আল্লাহ নাযিল করেছেন,ঠিক সেভাবেই উম্মতের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।তাই যে কেউ এই ইলম অর্জন করতে পারবে না। অনেক শর্তকে সামনে রেখে এই ইলম অর্জনে মনোনিবেশ করতে হবে।
আল কাউসারে এই ইলমের গুরুত্ব সম্পর্কে লেখা হয়েছে।ইলম অর্জনে কী কী গুণ থাকতে হবে? সেখানে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।সেটা আমরা তুলে ধরছি: 

এতক্ষণ যে আলোচনাটা আমরা পড়লাম, অবশ্যই আমরা বুঝতে পেরেছি যে,এই ইলমে দ্বীন অর্জন করা ততটা সহজ নয়। এর জন্য আমাকে অনেক কষ্ট এবং মুজাহাদা করতে হবে।
এর জন্য আমি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরছি:

মাদ্রাসার মহব্বত:

১.এই ইলম অর্জন করার জন্য আমাকে মাদ্রাসায় আসতে হবে। নিজে নিজে কিতাব পড়ে অর্জন করা সম্ভব নয়, না হলে গোমরাহ হয়ে যাবে। সুতরাং মাদ্রাসায় আসার পর আমি আমার ওস্তাদকে পাব, মাদ্রাসার জিনিসপত্র পাব, আমার সামনে অনেক কিতাব থাকবে, মাদ্রাসার দায়িত্বশীল ব্যক্তিগণ থাকবেন। সবকিছুর প্রতি থাকবে আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। মাদ্রাসার প্রত্যেকটা জিনিসের উপর আমার মহব্বত থাকবে। কোনো জিনিস ক্ষতি হচ্ছে, এটা আমি হতে দিব না। মাদ্রাসার সাথে সম্পৃক্ত যে বিষয়গুলো রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম রইল বিদ্যুৎ। আমাকে বিদ্যুতের অপচয় হতে দেওয়া যাবে না। বিষয়টা অত কঠিন নয়। যে পুরো মাদ্রাসার বিদ্যুৎ হেফাজত আমাকে করতে হবে। বরং আমার সামনে যদি কোন বিদ্যুতের অপচয় হয়, সেটা আমি প্রতিরোধ করার চেষ্টা করব। যেমন অপ্রয়োজনে কোনো ফ্যান চলছে, কোন বাতি জ্বলছে। কোন লোক না থাকলে সেটা আমি নিভিয়ে দিব, বন্ধ করে দিব। অপচয় হতে দিব না।
** পানির অপচয় হতে বিরত থাকব।আমি গোসল করব,উযু করব।কোনোভাবেই যাতে আমার পানির অপচয় না হয়।যতটুকু প্রয়োজন,ঠিক ততটুকুই ব্যবহার আমি করব। গরমকাল চলছে,আর আমিও ইচ্ছামতো পানি ঢালছি,এতে অপচয় হবে।হ্যা,গরম দূর করতে আমার যতটুকু পানি ব্যবহারের প্রয়োজন, ততটুকুই আমি ব্যবহার করব।যদি কোনো কল থেকে টপ টপ করে পানি পড়ে,সেটা বন্ধ করে দিব।আমি উযু করতে গিয়ে ৩/৪ মগ দিয়ে পানি ব্যবহার করব না। বরং আধা বা এক মগই যথেষ্ট।অন্য কাউকে পানি ব্যবহারে অপচয় করতে দেখলে তাকেও সতর্ক করব।
**মাদ্রাসায় থাকা অবস্থায় আমাদেরকে তিন বেলা খানা খেতে হয়। খানা এটা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অনেক বড় নেয়ামত। আমাদের তালেবে ইলম ভাইয়েরা খানার ব্যাপারে অনেক খেয়ানত করে থাকে। প্রথম ব্যাপার হলো, যদি কোন খাবার তাদের পছন্দমত না হয়, তাহলে মাদ্রাসার বদনাম করে, মাদ্রাসার ব্যাপারে সমালোচনা করে। তারা খাবারের বিভিন্ন নাম দিয়ে থাকে যেমন লেটকা খিচুড়ি ইত্যাদি জাতীয় নাম। এটা মারাত্মক গুনাহ। ইলম থেকে মাহরুম হওয়ার আলামত। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনও খাবারের দোষ ধরেন নি।যেমন হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে : ما عاب رسول الله صلى الله عليه وسلم طعاما قط এর অর্থ হল: হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও খাবারে দোষ ধরেন নি। আর আমাদের বর্তমান স্বভাব হল আমাদের পছন্দের একটু ব্যতিক্রম হলেই, আমরা খাবারের দোষ ধরা শুরু করি।যেমন কেন লবণ কম হল?কেন ঝাল বেশি হল ইত্যাদি। আর মাদ্রাসা মহলে এর প্রভাবটা একটু বেশি দেখা যায়। কখনও কখনও বাবুর্চির সাথেও খারাপ ব্যবহার করা হয়। এই হলো এক বিষয়।
দ্বিতীয়ত খাবারের অপচয় করা যাবে না। আমি যতটুকু খেতে পারব ঠিক ততটুকুই আমি নিব। অনেক ছাত্র এমন আছে যারা ভাত নষ্ট করে। ভাত ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। এটা অনেক খারাপ কথা। একটা ভাত তৈরি হওয়ার পিছনে কত মানুষের কত শ্রম রয়েছে। কত মানুষের ঘাম ঝরেছে। কত ফেরেশতা এর পিছনে নিযুক্ত ছিল। আমি কীভাবে ভাত নষ্ট করতে পারি। মাদ্রাসার ছাত্ররাই যদি খাবারের ক্ষেত্রে খেয়ানত করে, তাহলে সাধারণ মানুষ তাদের থেকে কী শিখবে? আবার অনেক ছাত্র এমন রয়েছে, যারা দস্তরখানায় একটা ভাত যদি পড়ে, তাহলে সেই ভাত উঠায় না। খাবারের উচ্ছিষ্ট অংশ যখন বনপ্লেটে ফেলে, তার সাথে কত ভাত চলে যায়? যেমন দারচিনি, মরিচ,হাড্ডি ইত্যাদি ফেলে দেওয়ার সময় অনেক ভাত পড়ে যায়,যা আমরা খেয়ালও করি না।উঠানোর প্রয়োজনবোধ করি না।ও ভাই,আমি তো হতে চাই একজন আদর্শ তালেবে ইলম,তাই না‌। আমার দ্বারা যেন কোন খেয়ানত না হয়। এতক্ষণ যেগুলো থেকে বেঁচে থাকতে বললাম, এগুলো সব খেয়ানতের শামিল।
*** মাদ্রাসায় আমরা দস্তরখানে একসাথে খানা খাই। তাই সর্বাত্মক চেষ্টা করব,খানার সময় কোন কথা না বলতে। চুপচাপ খানা খেয়ে উঠে যাব। খানা সামনে নিয়ে কারো সাথে লম্বা সময় গল্প করব না। খানা খাচ্ছি আর গল্প করছি, এতে তো আমার সময় নষ্ট হচ্ছে। আমার চেষ্টা থাকবে, যত অল্প সময় আমি খাবার খেয়ে পড়তে বসতে পারি। ২৪ ঘন্টার মাদ্রাসার জিন্দেগীতে ফাঁকফোকর যত সময় আছে,সবগুলো সময় আমাকে কাজে লাগাতে হবে। তাহলে বুঝলাম দস্তরখানে  আমি কথা বলব না। চুপচাপ খানা খাব। কেউ আমার সাথে কথা বলতে চাইলে বলব, ভাই খানা শেষে তারপর কথা বলব।
**মসজিদে যখন নামাজ পড়তে যাব,তখন আমি মসজিদে কথা বলব না। মসজিদে বসে আরেকজনের সাথে গল্প করবো না। আমি সব সময় সামনের কাতারে নামাজ পড়ার চেষ্টা করব। প্রত্যেক নামাজের ১০ মিনিট আগে মসজিদে চলে আসব। যদি মাদ্রাসার পক্ষ থেকে নিয়ম থাকে, তাহলে সে নিয়ম অনুযায়ী মসজিদে চলে আসব। অন্যথায় চেষ্টা করব ১০ মিনিট আগে চলে আসতে। ফজরের নামাজে জামাত দাঁড়ানোর ১০ মিনিট আগে চলে আসব এবং এসে সুন্নত পড়ে ঘুমানোর নিয়ত করে ঝিমাবো না। বরং তিন তাসবীহ আদায় করব। ফজরের পর মাসনূন দোয়াগুলো পড়ব। সূরা ইয়াসিন পড়ার চেষ্টা করব।যদি ফজরের পর দরস শুরু হয়, তাহলে মুখ হাত ধুয়ে দরসে বসব। যাতে ঘুমানোর সম্ভাবনা না থাকে।
জোহরের নামাজের ১০ মিনিট আগে মসজিদে উপস্থিত হব। এবং সুন্নত আদায় করে বাকি সময়টুকু কুরআন তেলাওয়াত করার চেষ্টা করব। আর মাদ্রাসার নিয়ম অনুযায়ী যে আমলগুলো থাকে সেটাও আদায় করব। আসরের পূর্বেও ১০ মিনিট আগে মসজিদে উপস্থিত হয়ে কুরআন তেলাওয়াত করব। কারণ কিতাবখানায় কুরআন তেলাওয়াত করার জন্য নির্দিষ্ট কোন সময় থাকে না। তাই এই নামাজের মুহূর্তগুলোতেই কুরআন তেলাওয়াত করলে ফায়দা হবে। কমপক্ষে দিনে তিন পারা পড়ার চেষ্টা করব। মাগরিবের নামাজের 15 মিনিট আগে এসে তিন তাসবিহ আদায় করব। এরপর আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করব। মাগরিবের আগ মুহূর্তে আল্লাহ তা'আলা দোয়া কবুল করেন। মাগরিবের পর থেকে যাতে ভালোভাবে মুতালাআ করতে পারি। ধ্যান খেয়ালের সাথে মুতালাআ করতে পারি।মুতালাআয় বিঘ্ন ঘটে এমন কোন কিছু যাতে সামনে না আসে, এজন্য আল্লাহ তাআলার কাছে খুব দোয়া চাইবো। মাগরিবের নামাজের পর আওয়াবীন পড়ার চেষ্টা করব। মাসনূন দোয়াগুলো পড়ব। এশারের নামাজের ১০ মিনিট পূর্বে মসজিদে এসে কুরআন তেলাওয়াত করব। তাহলে সারাদিনে কমপক্ষে পাঁচ পারা তো অবশ্যই তেলাওয়াত হবে। চেষ্টা করবে নিয়মিত পাঁচ পারা তেলাওয়াত করার জন্য। তাহলে সপ্তাহে এক খতম হবে।
** নামাজ সুন্নত তরিকায় পড়ার চেষ্টা করবে। কখনও তাড়াহুড়া করে নামাজ পড়বে না। তোমার নামাজ দেখে যেন অন্যজন বদ আচর নিতে না পারে। রুকু সেজদা,দাঁড়ানো, সবকিছু খুব ধীরস্থির ভাবে করবে। কেরাত পড়া, দুরুদ পড়া ইত্যাদি সবকিছুই খুব ধীরে সুস্থ পড়বে। তোমার নামাজ দেখে যেন অন্যজন নামাজ শিখতে পারে।
প্রত্যেকটা বিষয়ে কেন এত পাবন্দি করার কথা বলছি: কারণ তুমি তো চাও হাকিকী তালেবে ইলম হতে। তুমি তো চাও এই জামানার আবু হানিফা হতে। তুমি তো চাও এই জামানার গাজালী এবং আশরাফ আলী থানবী হতে। যদি কেউ হাকীকি আলেম হতে চায়, কেউ যদি হক্কানী আলেমদের কাতারে বনতে চায়, তাহলে অবশ্যই তাকে অনেক সতর্ক হয়ে চলতে হবে। এবং ছোটবেলা থেকেই খুব পাবন্দির সাথে চলাফেরা করতে হবে। মিজান জামাত থেকেই তোমাকে হতে হবে সৎ এবং একনিষ্ঠ। তাহলে তুমি অনেক বড় একজন আলেম হতে পারবে। তোমার দ্বারা এই উম্মতের অনেক বড় খেদমত হবে। তোমার দ্বারা ইসলামের অনেক উন্নতি হবে। এই ইলমের অনেক খেদমত এখনও বাকি রয়েছে, অনেক কিছু এখনও শুরুই হয়নি।
তাই আমি চাই তোমার দ্বারা বিশাল এক খেদমত হোক। তুমি চেষ্টা মেহনত পরিশ্রম করতে থাকো, আল্লাহ অবশ্যই তোমাকে সফল করবেন। যাই হোক আমরা নামাজের ব্যাপারে কথা বলছিলাম।
আমি কথাগুলো কোন শিরোনাম ছাড়াই বলছি। যেহেতু তোমার সাথে আমার প্রাথমিক কথা চলছে এই বিষয়ে। আগামীতে ইনশাল্লাহ আমরা শিরোনাম আকারে বলার চেষ্টা করব। এখন কথাগুলো ঢালাওভাবে বলছি।
** মাদ্রাসায় থাকা অবস্থায় তোমার অনেক সাথী হবে। তোমার জামাতের অনেকজন তোমার সাথী হবে। তোমার উপরের জামাতে পড়ে এমন অনেক বড় ভাই হবে তোমাদের, আবার তোমার নিচের জামাতে পড়ে এমনও অনেক হবে। সুতরাং তোমার উপরে জামাতে যারা পড়ে তাদেরকে সম্মান ভক্তি শ্রদ্ধা করতে হবে। মনে করতে হবে তারা তোমাদের ওস্তাদ। কারণ তোমাদের ধাপ তারা পাড়ি দিয়েই উপরে উঠেছে। তাদের সাথে কখনো বেয়াদবিমূলক আচরণ করা যাবে না। তোমার নিচে যারা পড়ে, তাদের সাথেও কখনো খারাপ আচরণ করা যাবে না। বরং ছোট বড় সবাইকেই সম্মান ও ভক্তির চোখে দেখবে। তোমার দ্বারা যেন ছোট বড় কেউই কষ্ট না পায়। ছোট বড় কোন ছাত্রের সাথেই অতিরিক্ত সম্পর্কে জড়াবে না। কারো সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক করবে না। অতিরিক্ত সম্পর্ক কারো সাথে করা, ইলম থেকে তোমাকে মাহরুম করবে। যদি তুমি কাউকে বন্ধু বানিয়ে ফেলো, তাহলে তোমার বিশাল ক্ষতি হয়ে যাবে। যেমন তোমার পড়ালেখায় মন বসবে না, সব সময় তার সাথে কথা বলতে মন চাইবে, মুতালাআ করতে বিঘ্ন সৃষ্টি হবে। অন্যান্য ছাত্রের চোখে তুমি অনেক নিচে নেমে যাবে। এমনকি ওস্তাদরাও তোমাকে খারাপ মনে করা শুরু করবে। অতিরিক্ত হয়ে গেলে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করে দিতে পারে ‌। তাই সাবধান। সবাইকে তুমি তোমার ছাত্র ভাই মনে করবে,যারা তোমার জামাতে আছে। উপরের জামাত এবং নিচের জামাত কারো সাথে কথা না বলার চেষ্টা করবে। উপরে জামাতের সাথে কথা বলার কী প্রয়োজন আছে? আর নিচের জামাতের সাথেও বা কথা বলার কী প্রয়োজন আছে?
অনেকে অজুহাত দেখায়, ভাই আমি তো উপরে জামাতের সাথে কথা বলি এজন্য যে তারা আমাকে সঠিক পরামর্শ দিবে, আমি তাদের পরামর্শ অনুযায়ী চলব, যেহেতু তারা আমার এই ধাপ পাড়ি দিয়ে অনেক উপরে উঠে গিয়েছে তাই তাদের থেকে অনেক কিছু জানতে পারব, ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় অজুহাত দেখায় উপরের জামাতে তালেবে ইলমদের সাথে কথা বলার জন্য। অথচ মাদ্রাসায় ওস্তাদরা কেন অবস্থান করছেন? তোমাকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য তো ওস্তাদরা বসেই আছেন। তারা সব সময় প্রস্তুত থাকেন যে ছাত্ররা আসবে,পরামর্শ চাইবে । তো তাদেরকে পরামর্শ দিবে। তোমার যা যা পরামর্শ লাগবে, যদি কোন কিতাব বুঝা লাগে, কোন কিতাব কিভাবে পড়বে, যদি সেটা জানা লাগে। তোমার জীবনে কিভাবে উন্নতি হবে, পরীক্ষার প্রস্তুতি তুমি কিভাবে নিবে ইত্যাদি যত পরামর্শ রয়েছে সবকিছুই ওস্তাদের থেকে নেবে। মনে রাখবে, তুমি মনে করছ উপরে জামাতে ছাত্ররা তোমার থেকে উপরে বটে তবে তোমার ওস্তাদদের থেকে নয়। তোমার ওস্তাদরা আরো অনেক উপরে। সব পরামর্শ তাদের থেকেই চাইবে। কারণ ছাত্ররা পরামর্শ দিতে গিয়ে ভুল করতে পারে। কেননা তারা এখনো ছাত্রই। আর ওস্তাদরা তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তারা কখনো তোমাকে ভুল পরামর্শ দিবে না। তাই ছাত্র পরামর্শ থেকে সাবধান।
এটাতো গেলে উপরে জামাতের ছাত্রদের সাথে কথা বলার বিষয়। নিচের জামাতেও কোন ছাত্রের সাথে কথা বলবে না। অনেকে বলে, আমি নিচের জামাতের ছাত্রদেরকে পরামর্শ দেই, যেহেতু আমি ওই জামাতের কিতাবাদি পড়েছি, তাই কিভাবে ওই কিতাব পড়তে হবে আমি তাদেরকে পরামর্শ দেই। নিচের জামাতের ছাত্র আমার কাছে পরামর্শ নিতে আসে, আমি জামাতের ভালো ছাত্র, তাই তারা আমার পরামর্শ গ্রহণ করতে আসে। ইত্যাদি নানান ধরনের অজুহাত। না ভাই,, এটা সঠিক পদ্ধতি নয়।

চলবে ইনশাআল্লাহ.........

Comments

Popular posts from this blog

“দ্বীনের দীপ্তি: ইসলামের মূল শিক্ষা”

স্মৃতির প্রাঙ্গণ ও মাধুর্যের ঋণ

📘 প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি