আখেরাতের পথ
"দুনিয়া ও আখেরাত: মানুষের আসল উদ্দেশ্য"
লেখক: মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা
আজকের সমাজে মানুষের জীবন দুনিয়ার পেছনে ছুটে যাওয়া, কেমন যেন এক দৌড়ে পরিণত হয়েছে। দুনিয়াতে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, অর্থ-বিত্ত, পদ-সম্মান, এবং সামাজিক অবস্থান অর্জনের জন্য মানুষের অশান্তির পরিমাণ বেড়ে গেছে। কিন্তু সেই দৌড়ে আখেরাত—পরকালের কথা—অদৃশ্য হয়ে গেছে। এই প্রবন্ধে আমরা আলোচনা করবো যে, কেন মানুষ আজকাল আখেরাতকে ভুলে গিয়েছে এবং এর ফলস্বরূপ সমাজে কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
১. দুনিয়ার প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ:
প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় মানুষ তাদের কর্ম, ব্যবসা, পড়াশোনা, সংসার, এবং সামাজিক সম্পর্কের দিকে এতটাই মনোযোগী হয়ে পড়ছে যে, তারা আখেরাতের কথা ভুলে যাচ্ছে। দুনিয়ার সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, নিত্যপ্রয়োজনীয়তা এবং চাহিদার তাগিদে মানুষের মনে আখেরাতের চিন্তা ক্রমশ ফিকে হয়ে যাচ্ছে। ফলে, তারা কখনও ভেবে দেখছে না যে, দুনিয়াতে যে কিছুই অর্জন করা হোক না কেন, শেষতক তাদের এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে।
২. সামাজিক এবং অর্থনৈতিক চাপ:
বর্তমান সময়ে অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক প্রতিযোগিতা, এবং কাজের প্রতি অযথা অনীহা মানুষের উপর এক অস্বাভাবিক মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে। মানুষের জন্য জীবনের সবথেকে বড় লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে—ধন-সম্পদ অর্জন। দুনিয়াতে সফলতা পেতে তারা নিজেদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ, এবং আধ্যাত্মিক লক্ষ্য সবকিছুকে উপেক্ষা করছে। তারা ভুলে যাচ্ছে যে, মানবজীবনের আসল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র দুনিয়ার উপার্জন নয়, বরং আখেরাতের জন্য ভালো কাজ করা, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা।
৩. আখেরাতের গুরুত্ব:
আখেরাত হলো মানুষের চূড়ান্ত গন্তব্য, যেখানে মানুষের সমস্ত কর্মের হিসাব হবে। যদি কেউ দুনিয়াতে ভালো কাজ করে, আল্লাহর ইবাদত করে, তবেই তাকে আখেরাতে পুরস্কৃত করা হবে। মুসলিমদের জন্য আখেরাতের প্রতি বিশ্বাস এবং তার প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুরআন শরীফ এবং হাদিসে আখেরাতের কথা বারবার উল্লেখ করা হয়েছে এবং তা মানুষের জন্য এক অমোঘ সতর্কবার্তা। দুনিয়াতে কাজের সঠিক উদ্দেশ্য হল আখেরাতে সফলতা অর্জন করা, যাতে মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে।
৪. আখেরাত ভুলে যাওয়ার প্রভাব:
যখন মানুষ আখেরাতের কথা ভুলে যায়, তখন তারা দুনিয়াতে অস্থায়ী সুখের জন্য সমস্ত কিছু ত্যাগ করে দেয়। তারা অন্যদের উপর শোষণ করে, মিথ্যা বলে, স্বার্থপর হয়ে ওঠে এবং সামাজিক অশান্তি সৃষ্টি করে। অথচ, একজন মুসলিমের উচিত সবকিছুই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা এবং সেই সঙ্গে আখেরাতের প্রস্তুতি নেওয়া।
৫. আখেরাতের দিকে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা:
আজকের মানুষকে আবার আখেরাতের দিকে মনোযোগী হতে হবে। তাদের বুঝতে হবে যে, দুনিয়া কেবল একটি পরীক্ষার ক্ষেত্র, আর পরকালে তাদের চূড়ান্ত পুরস্কার অপেক্ষা করছে। নিজেদের কাজের প্রতিদান আখেরাতে পাওয়ার জন্য, তাদের উচিত দুনিয়ার আনন্দের পেছনে না ছুটে বরং নিজের নৈতিকতা ও বিশ্বাসকে শক্তিশালী করা। নিয়মিত ইবাদত, আল্লাহর সান্নিধ্যে থাকার চেষ্টা, অন্যদের সাহায্য করা—এগুলোই আসল সফলতা এবং শান্তি অর্জনের উপায়।
আজকের পৃথিবী যদি একটু বেশি সচেতন হয়ে, আখেরাতের দিকে মনোযোগ দেয়, তবে মানুষের জীবন আরও সুন্দর, অর্থপূর্ণ এবং শান্তিপূর্ণ হবে। দুনিয়ার উপকারিতা চমৎকার, কিন্তু তার সঠিক ব্যবহার করতে হবে যেন আখেরাতের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে আমরা সফল হতে পারি। জীবনের আসল লক্ষ্য হবে আখেরাত—এটি যেন আমরা ভুলে না যাই।
Comments
Post a Comment