মাওলানা সা'দ সাহেবের ফিতনা ও তার বিস্তারিত ইতিহাস
মাওলানা সা'দ সাহেবের ফিতনা ও তার বিস্তারিত ইতিহাস
ভূমিকা
তাবলীগ জামাত বিশ্বব্যাপী দাওয়াত ও তাবলীগের এক বিশাল প্ল্যাটফর্ম। এটি মূলত ঈমান, আমল ও ইসলামী পরিশুদ্ধ জীবনের প্রতি মানুষকে আহ্বান জানানোয় নিরলস প্রচেষ্টা করে আসছে। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ভিতরে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন মাওলানা মুহাম্মদ সা'দ কান্ধলভী সাহেব।
ফিতনার সূচনা
মাওলানা সা'দ সাহেব নিজেকে আমীর হিসেবে উপস্থাপন করে কিছু বক্তব্য দিতে শুরু করেন, যা উলামায়ে কেরাম ও বিশেষ করে তাবলীগের প্রথাগত মাশায়েখদের ব্যাখ্যার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ায়। তিনি কুরআন ও হাদীসের ব্যাখ্যায় এমন কিছু মনগড়া দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন, যা দারুল উলুম দেওবন্দসহ বিশ্বের বড় বড় মাদরাসাগুলোর উলামাদের তীব্র আপত্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
দারুল উলুম দেওবন্দের অবস্থান
২০১৬ সালে দেওবন্দের ওলামায়ে কেরাম ফতোয়া জারি করেন, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয় যে, মাওলানা সা'দ সাহেবের কিছু বক্তব্য কুরআনের খোলাখুলি অপব্যাখ্যা এবং সাহাবাদের শানে বেয়াদবি। তারা বলেন, এসব বক্তব্য তাবলীগ জামাতের মৌলিক নীতির বিরোধী এবং তা উম্মতের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
বিতর্কিত বক্তব্য ও অপব্যাখ্যা
মাওলানা সা'দ সাহেব কিছু বক্তব্যে হযরত মূসা (আ.)-এর প্রতি অসম্মানসূচক মন্তব্য করেন, সাহাবাদের ইজতিহাদকে অবজ্ঞা করেন এবং কুরআনের ব্যাখ্যায় নিজের মনগড়া ব্যাখ্যা দেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি বলেন: "সাহাবারা কখনো তাবলীগ করেননি, তাবলীগ একমাত্র রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাজ ছিল।" যা তাফসীর ও হাদীসের আলোকে স্পষ্টতই ভ্রান্ত।
বাংলাদেশ ও বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশে হেফাজতে ইসলামসহ অন্যান্য দ্বীনদার মহল মাওলানা সা'দ সাহেবের বাংলাদেশে আগমনকে বাধা দেয়। ঢাকার কাকরাইল মসজিদে তাকে ঠাঁই না দেওয়া হয় এবং আলাদা জামাত গঠন করা হয়। ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, আফ্রিকা সহ বিশ্বের বহু দেশে তার বিরুদ্ধে তাবলীগ জামাতের অভ্যন্তরে স্বতন্ত্র জামাত গঠন করা হয়েছে।
উলামায়ে কেরামের দলিল ও স্বাক্ষর
দারুল উলুম দেওবন্দ ছাড়াও মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, মাওলানা সাঈদ আহমদ পালনপুরী (রহ.), মাওলানা তারিক জামিল (প্রথমে সংশ্লিষ্ট ছিলেন, পরে নিজেকে গুটিয়ে নেন), মাওলানা ইউসুফ বন্নোরি (রহ.) সহ অসংখ্য ওলামায়ে কেরাম মাওলানা সা'দের বিরুদ্ধে দলিলসহ প্রমাণ দেন। তারা বলেন, এই পথে চলা মানে বিভ্রান্তি গ্রহণ করা।
উপসংহার
মাওলানা সা'দ সাহেবের ফিতনা আজ সারা বিশ্বে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। তার মতবাদ একধরনের আত্মঘাতী ব্যাখ্যা, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ইসলামের মূল নীতিবোধ থেকে বিচ্যুত করে দিচ্ছে। তাই আমাদের দায়িত্ব হলো, আল্লাহর দেওয়া দ্বীনকে মূল উৎস থেকে গ্রহণ করা এবং উলামায়ে হক্কানীদের নির্দেশনা অনুযায়ী চলা।
Comments
Post a Comment