তাফসিরে জালালাইন কীভাবে পড়লে সর্বাধিক ফায়দা হবে
---
তাফসিরে জালালাইন কীভাবে পড়লে সর্বাধিক ফায়দা হবে
মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা, দ্বীনের দীপ্তি
ইবারত বুঝার জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতি
১. নাহু ও সরফে দখল:- কাফিয়া, হেদায়াতুন্নাহু, শরহে মিয়ার ইত্যাদি কিতাবে মজবুত দখল দরকার।
- ইযমার মারজি, হাল-তামইয়্যিজ, তাকদীর, মহযূফ ক্বাওল—এসব জানতে হবে।
- মাআনী, বায়ান, বদি ইত্যাদির প্রাথমিক ধারণা থাকলে ইবারতের রূহ বোঝা সহজ হয়।
- যেমন:
قد,إنما,إذ,لو,أنইত্যাদি হরফের দিক লক্ষ্য রাখা।
মুতালাআ ও দরসের আদর্শ পদ্ধতি
১. দৈনিক নির্দিষ্ট পরিমাণ পড়া:- প্রতিদিন ৫–১০ আয়াত নিয়ে মুতালাআ করা।
- ইবারতের কিরআত ও অনুবাদ।
- নাহবী ও সরফী গঠন বিশ্লেষণ।
- মূল তাফসির বুঝা—লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন।
- প্রতিটি শব্দের অর্থ, সিগা, বাব, কুরআনের অন্য জায়গায় প্রয়োগ দেখতে হবে।
- হাশিয়ায়ে সাওয়ী, শিহাব, তাফসিরে বায়যাভী, মাজহারী ইত্যাদি কাজে লাগবে।
হুজুরদের তাকরীরি ভাষায় দিকনির্দেশনা
- “জালালাইন হলো ইবারতের ঘনীভবন।” ছাত্র যেন প্রতিটি বাক্যে তিনটি প্রশ্ন করে: কী বলা হয়েছে, কেন বলা হয়েছে, কীভাবে বলা হয়েছে।
- দারসের আগে ছাত্রের মেহনত অপরিহার্য।
- উস্তাদ কেবল দিক দেখান, হাঁটতে হয় ছাত্রকেই। - (আব্দুল মালেক সাহেব দা.বা.)
- নাহবী গঠন, বালাগাত, তাকদীর সব কিছু উস্তাদ দারসে তুলে ধরবেন।
সহায়ক কিতাবসমূহ
| কিতাবের নাম | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|
| হাশিয়ায়ে সাওয়ী | সহজ ভাষায় ইবারতের ব্যাখ্যা |
| হাশিয়া শিহাব | নাহবী বিশ্লেষণে উপকারী |
| তাফসিরে বায়যাভী | ইশারাসমূহ ব্যাখ্যায় সহায়ক |
| আল-ইতকান (সিউটি) | উলূমুল কুরআনের পটভূমি দেয় |
তালেবে ইলমদের করণীয়
- প্রতিদিন ৩টি শব্দের বিশ্লেষণ লিখা।
- ৫ আয়াতের সারাংশ ৩ লাইনে লিখা।
- মহযূফ ক্বাওলের জায়গায় সম্ভাব্য ক্বাওল বসিয়ে দেখা।
এড়িয়ে চলা উচিত যেসব ভুল
- শুধু অনুবাদের উপর নির্ভর।
- হাওয়ালা বাদ দিয়ে পড়া।
- নাহবী গভীরতা না বোঝা।
- দরসকে শ্রবণ নির্ভর করে ফেলা।
শেষ কথা
যে তালেবে ইলম জালালাইনকে ইলমী রফাকতের সাথে পড়বে, সে কুরআনের গভীরে যেতে পারবে ইনশাআল্লাহ। দরস, মুতালাআ ও চিন্তা—এই তিনটি হাত ধরলে কিতাবটি আত্মার দরজায় কুরআনের নূর পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে।
Comments
Post a Comment