ইফতার, কিছু চিন্তা

                        ইফতার, কিছু চিন্তা 

                  মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা 

 গতকালকে যখন ইফতার করতে বসেছি, তখন এক মাসআলার সম্মুখীন হয়েছি। মোবাইলে দেখি সময় শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু মসজিদে আজান হচ্ছে না। দাদা আমাকে বলল,সময় তো হয়ে গিয়েছে, আমরা ইফতার শুরু করে দেই। আমার এক ভাই বলল, আযানটা দিলে তারপরেই ইফতার শুরু করি। তখন আমার জেহেনে আসল। এই মাসআলাটা তাহকীক করা দরকার। সময় হয়ে গেলে কি খাওয়া শুরু হবে নাকি আযানের অপেক্ষায় থাকতে হবে?

গত ১৯ শে মার্চ ২০২৫ এক সংবাদমাধ্যমে জানা যায়:

সময় হয়েছে, আজান হয়নি: ইফতারের বিধান কী?

রমজান মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইফতার। সূর্যাস্তের পর ইফতার করা ইসলামের সুস্পষ্ট বিধান। তবে অনেক সময় আজান দিতে দেরি হয়। ফলে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, ইফতারের সময় হলেও কি আজান শোনা পর্যন্ত অপেক্ষা করা জরুরি? নাকি নির্ধারিত সময় হলেই ইফতার করা যায়? আবার কেউ কেউ ভুলবশত আজানের আগেই ইফতার করে ফেলেন। তাহলে তাদের রোজার হুকুম কী?

ইফতারের সময় নির্ধারণে মূলনীতি   :

ইসলামে ইফতার করার মূল ভিত্তি হলো সূর্যাস্তের সময়। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন রাত এদিক থেকে আসে এবং দিন ওদিক থেকে চলে যায় এবং সূর্য অস্ত যায়, তখনই রোজাদার ইফতার করবে। (সহিহ বুখারি: ১৯৫৪, সহিহ মুসলিম: ১১০০)

بَاب مَتَى يَحِلُّ فِطْرُ الصَّائِمِ

حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ سَمِعْتُ عَاصِمَ بْنَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَقْبَلَ اللَّيْلُ مِنْ هَا هُنَا وَأَدْبَرَ النَّهَارُ مِنْ هَا هُنَا وَغَرَبَتْ الشَّمْسُ فَقَدْ أَفْطَرَ الصَّائِمُ

পরিচ্ছেদঃ ৩০/৪৩. সায়িমের জন্য কখন ইফতার করা বৈধ।

وَأَفْطَرَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ حِينَ غَابَ قُرْصُ الشَّمْسِ

সূর্যের গোলাকার বৃত্ত অদৃশ্য হওয়ার সাথে সাথেই আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) ইফতার করতেন।

১৯৫৪. ‘উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন রাত্র সে দিক হতে ঘনিয়ে আসে ও দিন এ দিক হতে চলে যায় এবং সূর্য ডুবে যায়, তখন সায়িম ইফতার করবে। (মুসলিম ১৩/১০, হাঃ ১১০০, আহমাদ ২৩১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮২৭)

হাদীসটি সহীহ।।

এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, ইফতার শুরু করার মূল নির্ধারক হলো সূর্যাস্ত, আজান নয়। তবে সমাজের অধিকাংশ মানুষ আজানের মাধ্যমেই ইফতারের সময় বোঝেন। এজন্য সাধারণত আজান শোনা পর্যন্ত অপেক্ষা করাই উত্তম।  

আজান দিতে দেরি হলে করণীয় ::

অনেক সময় দেখা যায়, ইফতারের নির্ধারিত সময় হয়ে গেলেও আজান দিতে কিছুটা দেরি হয়। এটি মসজিদের মুয়াজ্জিন বা ইমামের ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে হতে পারে, আবার কোনো কারিগরি সমস্যার কারণেও দেরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে করণীয় কী?  

১. বিশ্বস্ত সময়নির্ধারণী দেখে ইফতার: যেহেতু ইসলামে সূর্যাস্তের সময়েই ইফতার করতে বলা হয়েছে, তাই বিশ্বস্ত সময়নির্ধারণী দেখে ইফতার করা জায়েজ। বিশ্বস্ত ইসলামিক ক্যালেন্ডার বা অনুমোদিত সময়সূচির ওপর ভিত্তি করে ইফতার করলে কোনো সমস্যা নেই।  

২. অযথা সন্দেহ না করা:  ইসলামে অতিরিক্ত সন্দেহ প্রবণতা পরিহার করতে বলা হয়েছে। যদি আপনি নিশ্চিত হন যে সূর্যাস্ত হয়ে গেছে, তাহলে ইফতার করতে পারেন। তবে নিশ্চিত না হলে আজান পর্যন্ত অপেক্ষা করাই উত্তম।  

খোলাসা কথা হলো: সময়মতো যদি আযান শুরু না হয়, তাহলে আমরা ইফতার শুরু করে দিব। কারণ সূর্যাস্ত হয়ে যাওয়া মানেই, ইফতারের সময় শুরু হয়ে যাওয়া। আর এটা আপনি বুঝতে পারি ক্যালেন্ডারের দেওয়া সময় থেকে।

** এই বিষয়ে আরো লম্বা তাহকীকের প্রয়োজন।কাদীম কিতাব থেকে এর হাওয়ালা বের করা, সাহাবাদের সময়ে, তাবেঈদের সময়ে, আমাদের পূর্ববর্তী আকাবীরদের সময়ে এরকম ঘটনা ঘটলে তারা কীভাবে আমল করতেন। সবকিছু সামনে রেখে একটা তাহকীকি সমাধান সামনে আসবে ইনশাআল্লাহ। এটার জন্য বহু সময়ের প্রয়োজন। ইনশাআল্লাহ তাওফীক শামিলে হাল হলে, এই বিষয়ে বিস্তারিত তাহকীক পেশ করব। আল্লাহ তৌফিক দান করুন আমীন।



Comments

Popular posts from this blog

“দ্বীনের দীপ্তি: ইসলামের মূল শিক্ষা”

স্মৃতির প্রাঙ্গণ ও মাধুর্যের ঋণ

📘 প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি