শরীয়তের গুরুত্বপূর্ণ একটা দিক
সংকলনে মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা
আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় হলো عزل নিয়ে।এর মানে হলো বাধাগ্রস্ত হওয়া। عَزَلَ : [ع ز ل]. (فعل: ثلاثي متعد بحرف). عَزَلْتُ، أَعْزِلُ، اِعْزِلْ، مصدر عَزْلٌ. "عَزَلَهُ الْمُدِيرُ عَنْ مَنْصِبِهِ" : نَحَّاهُ، رَفَضَهُ، فَصَلَهُ مِنْهُ. "لَيْسَ مِنْ حَقِّهِ أَنْ يَعْزِلَهُ عَنْ عَمَلِهِ".
এর বাংলা অর্থ আলাদাকরণ, বরখাস্তকরণ, অপসারণ, যৌন মিলনে বীর্য প্রত্যাহার.
এই عزل আগে ছিল কিন্তু এখন تحديد হয়ে গেছে। عزل মানে স্ত্রী মিলনের সময় বাইরে বীর্যপাত করা। যার উদ্দেশ্য স্ত্রীকে গর্ভধারণ থেকে বিরত রাখা। শারীরিক অসুস্থতা অথবা দুই সন্তানের মাঝে প্রয়োজনীয় ব্যবধান রাখার ক্ষেত্রে অস্থায়ীভাবে আযল করা শরী‘আতে বৈধ। জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য এটি একটি কৌশল মাত্র। তবে বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আল্লাহ চাইলে এর পরেও গর্ভে সন্তান আসতে পারে।
মেশকাত শরীফ, মুসলিম শরীফ ও অন্যান্যা হাদিসের কিতাবেও একটি বর্ণণা এসেছে যে,
بَابُ الْمُبَاشَرَةِ
وَعَنْهُ قَالَ: إِنَّ رَجُلًا أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: إِن لي جَارِيَةً هِيَ خَادِمَتُنَا وَأَنَا أَطُوفُ عَلَيْهَا وَأَكْرَهُ أَنْ تَحْمِلَ فَقَالَ: «اعْزِلْ عَنْهَا إِنْ شِئْتَ فَإِنَّهُ سَيَأْتِيهَا مَا قُدِّرَ لَهَا» . فَلَبِثَ الرَّجُلُ ثمَّ أَتَاهُ فَقَالَ: إِن الْجَارِيَة قد حبلت فَقَالَ: «قَدْ أَخْبَرْتُكَ أَنَّهُ سَيَأْتِيهَا مَا قُدِّرَ لَهَا» . رَوَاهُ مُسلم
এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে বলল, আমার দাসীর সাথে আমি মিলিত হ’লেও তার গর্ভধারণ আমি পছন্দ করি না। তিনি বললেন, তুমি চাইলে আযল করতে পার, তবে আল্লাহ তা‘আলা যা তাক্বদীরে লিখেছেন তা হবেই। (মিশকাত হা/৩১৮৫)।
باب حُكْمِ الْعَزْلِ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَمْرٍو الأَشْعَثِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ حَسَّانَ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ عِيَاضٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ عِنْدِي جَارِيَةً لِي وَأَنَا أَعْزِلُ عَنْهَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ ذَلِكَ لَنْ يَمْنَعَ شَيْئًا أَرَادَهُ اللَّهُ " . قَالَ فَجَاءَ الرَّجُلُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الْجَارِيَةَ الَّتِي كُنْتُ ذَكَرْتُهَا لَكَ حَمَلَتْ .
فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَنَا عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ"
সহীহ মুসলিম,হাদিস নং ১৪৩৯
الْعَزْل সম্পর্কে একাধিক বর্ণণা আছে। এখানে এই দুটি হাদিস উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করছি। এখানে মুখ্য বিষয় হলো যে প্রয়োজনের খাতিরে الْعَزْل করা যেতে পারে।তবে সন্তানের ভরণ-পোষণের ভয়ে ‘আযল’ করা নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেন,
﴿وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلَاقٍ ۖ نَّحْنُ نَرْزُقُهُمْ وَإِيَّاكُمْ ۚ إِنَّ قَتْلَهُمْ كَانَ خِطْئًا كَبِيرًا
‘তোমরা দরিদ্রতার ভয়ে সন্তানদেরকে হত্যা করো না। কেননা আমি যেমন তোমাদেরকে রিযিক দেই, তেমনি তাদেরকেও রিযিক দান করি।' (আন‘আম ৬/১৫১)। অতএব আযল পদ্ধতি অথবা বর্তমান যুগে আবিষ্কৃত জন্মনিয়ন্ত্রণের যত পদ্ধতি রয়েছে, সেগুলো শারীরিক অসুস্থতা অথবা দুই সন্তানের মাঝে প্রয়োজনীয় ব্যবধান রাখার উদ্দেশ্যে অস্থায়ীভাবে গ্রহণ করা জায়েয। স্থায়ীভাবে গর্ভনিরোধ নিষিদ্ধ।
মনে রাখতে হবে যে, ইসলামে অধিক সন্তান লাভে উৎসাহিত করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
وَعَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَزَوَّجُوا الْوَدُودَ الْوَلُودَ فَإِنِّي مُكَاثِرٌ بِكُمُ الْأُمَم» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ
তোমরা প্রেমময়ী ও অধিক সন্তান দেনেওয়ালা নারীকে বিবাহ কর। কেননা আমি কিয়ামতের দিন অন্যান্য উম্মতের চাইতে তোমাদের সংখ্যা বৃদ্ধিতে গর্ব করব’ (আবুদাঊদ, নাসাঈ, মিশকাত হা/৩০৯১; আহমাদ)। জন্মনিয়ন্ত্রণ বা জন্মনিরোধে উক্ত উদ্দেশ্য যেমন ব্যাহত হয়, তেমনি নারীর স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। যে নারীর যত সন্তান বেশী, সে নারী তত সুখী ও স্বাস্থ্যবর্তী। সন্তান জন্ম দেওয়াই নারীর প্রকৃতি। আর এই প্রকৃতির উপর হস্তক্ষেপ করলে তার মন্দ প্রতিক্রিয়া হওয়াটাই স্বাভাবিক।
একজন বাদির সন্তান مملوكة হবে,কেননা তার মা যেহেতু مملوكة । أمة নিজেই তো مملوكة ।سيد তো বেশি বেশি সন্তান নিতে চাবেই।তবে অনুমতি সাপেক্ষে।কারণ এটা ملكية এর মধ্যে এক ধরণের ক্ষতি।এই সন্তানের নসব স্বামী থেকেই ثابت হবে।তবে مملوكة থেকে যাবে। অনুমতি এই জন্য যে مالية এর হক তার আছে।।
* حر - حرة এর ক্ষেত্রে عزل এর শরয়ী حيثية কী?
এ ক্ষেত্রে অসংখ্য হাদিস রয়েছে।এক হাদিসে বর্ণিত আছে যে,
عن جدامة بنت وهب، أخت عكاشة.
قالت: حضرت رسول الله صلى الله عليه وسلم في أناس، وهو يقول: "لقد هممت أن أنهى عن الغيلة.
فنظرت في الروم وفارس.
فإذا هم يغيلون أولادهم، فلا يضر أولادهم ذلك شيئا".
ثم سألوه عن العزل؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم "ذلك الوأد الخفي".
زاد عبيد الله في حديثه عن المقرئ وهي: {وإذا الموؤدة سئلت} [٨١ /التكوير/ ٨].
ذلك الوأد الخفي) الوأد دفن البنت وهي حية)
وكانت العرب تفعله خشية الإملاق.
وربما فعلوه خوف العار.
(وهي وإذا المؤودة سئلت) الضمير راجع إلى مقدر.
أي هذه الفعلة القبيحة مندرجة في الوعيد تحت قوله تعالى: وإذا المؤودة سئلت.
والمؤودة هي البنت المدفونة حية.
ومعنى ذلك أن العزل يشبه الوأد المذكور في هذه الآية
তো এখানে মুখ্য বিষয় হলো ذلك الوأد الخفي ।কোনো হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত হয়,এই عزل করাটা জায়েজ, আবার কোনো হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত হয় জায়েজ নেই।
গোপনে হত্যা করা প্রকাশ্য হত্যা করা থেকে জঘন্যতম।এটা একটা বিবেচনা। আবার এটাও হতে পারে যে, প্রকাশ্য হত্যা থেকে জঘন্যতম না হলেও مآلا শেষ নতীজায় একটা হত্যা।এই বিবেচনায় সূক্ষ হত্যা থেকে একটু হালকা হলো।কারণ عزل না করলেও বাচ্চা হবে কি হবে না ,এই বিষয় টা إحتمال আছে।
عزل না করে বাচ্চা পাওয়া,এই বিবেচনায় বলা হলো হালকা। وأد خفي باعتبار المآل এটা ظاهر থেকে হালকা।
এখানে দুটি اعتبار বলা হয়েছে,তো আমরা দুটির কোনটি নিব।
সরাসরি হত্যা করা আর চিকিৎসার আদলে হত্যা করা। দুইটা ভিন্ন বিষয়।যেটা চিকিৎসার আদলে হত্যা,সেটা وأد خفي। জঘন্যতম বিভিন্ন দিক থেকে হতে পারে وأد ظاهر থেকে। এখানে লক্ষণীয় যে বিষয়টি ফুটে উঠেছে,সেটি হলো وأد خفي এবং وأد ظاهر।এই দুটির শাস্তির ব্যাপারে কি কোনো নস আছে? وأد ظاهر এর ব্যাপারটি তো সুস্পষ্ট। এখানে শাস্তির বিষয় আছে। কিন্তু وأد خفي এর ব্যাপারে কোনো শাস্তির বিষয় নসে নেই। আবার ক্ষতিও হচ্ছে।
এখন যদি আমরা হাদিসের مدلول গ্রহণ করি,তাহলে আমাদের مقصد দেখতে হবে।শুধু শব্দ দেখে বুঝা যাবে না।
চলবে ইনশাআল্লাহ,,,,
Comments
Post a Comment