মা ও বোনদের উদ্দেশ্যে একটি হৃদয়স্পর্শী মুজাকারা
নারীর মর্যাদা: কুরআনের আলোকে
মা ও বোনদের উদ্দেশ্যে একটি হৃদয়স্পর্শী মুজাকারা
আলহামদু লিল্লাহি ওয়াসসালাতু ওয়াসসালামু ‘আলা রাসূলিল্লাহ।
সম্মানিত মা ও বোনেরা,
আল্লাহ তাআলার অশেষ শোকরিয়া যে, তিনি আমাদের হিদায়াতের পথ দেখিয়েছেন, আমাদের ইসলাম নামক নেয়ামতের মধ্যে দাখিল করেছেন। আজ আমরা এখানে দ্বীনের কিছু মৌলিক কথা আলোচনার উদ্দেশ্যে একত্র হয়েছি।
«الدال على الخير كفاعله» — “যে ব্যক্তি ভালো কাজের দিকে দাওয়াত দেয়, সে যেন নিজেই তা করেছে।” (তিরমিযি)
আমরা যারা নারীরা—মা, বোন, কন্যা, স্ত্রী—আমরা একটি জাতির অর্ধাংশ, বরং বলা চলে, একটি জাতির ভবিষ্যৎ আমাদের হাতেই গড়ে ওঠে। আমাদের আচরণ, চলাফেরা, পোশাক-আশাক—সবকিছুই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর প্রভাব ফেলে।
নারীর মর্যাদা: কুরআনের আলোকে
يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَىٰ — “হে মানবজাতি! আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি।” (সূরা হুজুরাত: ১৩)
ইসলামের আগমনে নারীরা সম্মান ও মর্যাদা লাভ করে। কন্যাসন্তান জীবন্ত কবর দেওয়ার বর্বরতা ইসলাম বন্ধ করে দেয়।
وَإِذَا الْمَوْءُودَةُ سُئِلَتْ * بِأَيِّ ذَنبٍ قُتِلَتْ — “যখন জীবন্ত কবর দেওয়া কন্যাকে জিজ্ঞাসা করা হবে—কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল?” (সূরা তাকভীর: ৮-৯)
নারীর চার পরিচয়
- মা: «أمك، ثم أمك، ثم أمك، ثم أباك» — “তোমার মা, তারপর তোমার মা, তারপর তোমার মা, তারপর তোমার বাবা।” (সহীহ বুখারী)
- স্ত্রী: وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ — “তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করো।” (সূরা নিসা: ১৯)
- কন্যা ও বোন: «من عال جاريتين حتى تبلغا جاء يوم القيامة أنا وهو كهاتين» — “যে ব্যক্তি দুটি কন্যা সন্তানকে সাবালক হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করবে, সে কিয়ামতের দিন আমার সাথে থাকবে।” (সহিহ মুসলিম)
পর্দা: নারীর নিরাপত্তা ও সম্মানের প্রতীক
يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِن جَلَابِيبِهِنَّ — “তারা যেন নিজেদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়।” (সূরা আহযাব: ৫৯)
পর্দা নারীর সৌন্দর্য, সম্মান ও নিরাপত্তার ঢাল।
হারাম সম্পর্ক: এক ভয়ংকর ফিতনা
وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَىٰ — “তোমরা ব্যভিচারের ধারে-কাছেও যেও না।” (সূরা ইসরা: ৩২)
আজকের সমাজে হারাম সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, প্রেমের নামে বহু মেয়ে জীবন নষ্ট করে ফেলছে। একসময় তা লজ্জা ও অপমানের কারণ হয়।
মেয়েদের শিক্ষা ও দায়িত্ব
«طلب العلم فريضة على كل مسلم» — “প্রত্যেক মুসলিম পুরুষ ও নারীর ওপর জ্ঞান অর্জন করা ফরজ।” (ইবনে মাজাহ)
নারী শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য—দ্বীন শেখা, চরিত্রবান হওয়া এবং পরিবারকে দ্বীনদার বানানো।
স্মার্টফোন: নীরব ঘাতক
আজ প্রযুক্তির নামে অনেকে নিজেকে ধ্বংস করছে। ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রামের ফাঁদে পড়ে হারাম কাজে লিপ্ত হচ্ছে। পরিবার, আত্মা, চরিত্র—সব হারিয়ে যাচ্ছে।
উপসংহার
«الحياء شعبة من الإيمان» — “লজ্জাশীলতা ঈমানের একটি শাখা।” (বুখারি)
পরিচ্ছন্ন জীবন, পর্দা, ইজ্জত রক্ষা—এইগুলোই নারী জীবনের আসল সৌন্দর্য। আমাদের উচিত সন্তানদেরকে লাজুক, ইমানদার ও দ্বীনদার করে গড়ে তোলা।
লিখেছেন: মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা
দ্বীনের দীপ্তি
Comments
Post a Comment