পথহারা মানুষ, পথের সন্ধানে

 

পথহারা মানুষ, পথের সন্ধানে

 লিখেছেন: মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান ত্বলহা

রাতের নিঃস্তব্ধতা যেন কানে কানে ফিসফিস করে বলছিল—“তুমি কি হারিয়ে গেছো?” শহরের কোলাহলের মাঝে, আলো-আঁধারির ভিড়ে, মনের মধ্যে যেন এক অদ্ভুত অন্ধকার ঘোরাঘুরি করছিল রায়হানের। সে একসময় মসজিদের প্রথম কাতারে নামাজ পড়ত, মুখে কুরআনের আয়াত ঝরত, চোখে থাকত পরকালের ভয় আর অন্তরে থাকত আল্লাহর প্রেম।

কিন্তু জীবন নামের এক মোহময় হাতছানি তাকে কেড়ে নেয়া শুরু করল। বন্ধুদের হাসি, মোবাইলের চটকদার দুনিয়া, ফেসবুকের নেশা, আর রাতভর সিনেমা—এসব যেন ধীরে ধীরে তার হৃদয়ের আলো নিভিয়ে দিল। নামাজ থেকে দূর, কুরআনের শব্দে বিরক্তি, মায়ের চোখের পানি তাকে আর স্পর্শ করত না। সে যেন পথহারা এক নাবিক, যে দিক হারিয়েছে অথচ অনুভব করছে না সে হারিয়েছে!

একদিন, হঠাৎই সে এক পুরনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা করল। বন্ধু তখন মাদরাসায় পড়ছে। তার চোখে ছিল শান্তি, মুখে ছিল নূরের ছটা। রায়হান যেন লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফেলল। বন্ধু জিজ্ঞাসা করল, “ভাই, কেমন আছো?” সে মাথা নিচু করে শুধু বলল, “ভালো নেই।” সেই কথা যেন তার ভিতরকার কাঁপুনি জাগিয়ে দিল। সেইদিনই রাতে, অনেক দিন পর সে ওযু করল। সিজদাহ দিল। কাঁদল।

এই কান্না ছিল না দুনিয়ার কষ্টে, এই কান্না ছিল আল্লাহকে ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায়। রায়হান ধীরে ধীরে নামাজে ফিরল, কুরআন হাতে তুলে নিল, দুনিয়ার নেশা থেকে দূরে থাকল, রাতের বেলা কেঁদে কেঁদে তওবা করল। মানুষ বলল— “ও তো আবার আগের রায়হান হয়ে গেছে!” কিন্তু রায়হান জানে, সে এখন আগের থেকেও ভালো হয়েছে, কারণ এবার সে শুধু বাহিরে নয়, অন্তরেও আল্লাহর নূর অনুভব করছে।

পথহারা মানুষ যখন সত্যিই পথ খুঁজে পায়, তখন তার চোখে অন্যরকম এক দীপ্তি থাকে। সে জানে দুনিয়া যতই ডাকুক, আখেরাতই তার মূল ঠিকানা। রায়হান আজ নতুন এক জীবন যাপন করছে। সে আজ অন্যদেরও ডাকে—“ভাই, আসো। আল্লাহর দিকে ফিরে চলো। এখানেই শান্তি।”

এ গল্প শুধু রায়হানের নয়। এ আমাদের সবার গল্প। হয়তো আমরা পথ হারিয়েছি। কিন্তু ফিরে আসার দরজা এখনো খোলা। এখনও সময় আছে। এখনও রাত আছে কাঁদার। এখনও সূর্য উঠবে সেই নতুন জীবনের, যেখানে আল্লাহ আছেন, যেখানে সত্য শান্তি অপেক্ষা করে।

**মোঃ মনিরুজ্জামান ত্বলহা**

Comments

Popular posts from this blog

“দ্বীনের দীপ্তি: ইসলামের মূল শিক্ষা”

স্মৃতির প্রাঙ্গণ ও মাধুর্যের ঋণ

📘 প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি