তালেবে ইলম তোমাকে ২


               হে তালেবে ইলম তোমাকে ২য় পর্ব

                  মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা 

 তুমি যদিও উপরের জামাতে পড়ো,তবে তোমার পড়ালেখা এখনো শেষ হয়নি। তোমার ভিতরে এখনও পরামর্শ দেওয়ার যোগ্যতা হয়ে ওঠেনি।কোনটা ভালো এবং কোনটা মন্দ, পরিপূর্ণভাবে তুমি এখনও জানো না।তোমার পরামর্শটাও তো ভুল হতে পারে।তুমি তো নিশ্চিত না যে, তোমার পরামর্শটা একদম সঠিক। তাই ছোট ভাইদের কে কখনও পরামর্শ দিতে যাবে না। কেউ পরামর্শ নিতে চাইলে বলে দিবে, ভাই হুজুর আছেন,হুজুরের কাছে যান। আমি তো এখনও ছাত্র‌। আমি পরামর্শ দিতে জানি না। কোন ছাত্রের কাছে পরামর্শ নিবেও না এবং কোন ছাত্রকে পরামর্শ দিবেও না।তুমি নিজেই ওস্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী চলবে। শুধু শুধু সময় নষ্ট করবে না। বরং সময় হেফাজত করে কিতাবের পিছনে মেহনত করবে।এটাই তোমার কাজে আসবে।কোন ছাত্রকে গড়ার জন্য তো ওস্তাদরাই রয়েছেন।এর জন্য তোমাকে পরিশ্রম করতে হবে না। কোন ছাত্রের উন্নতি হচ্ছে,না অবনতি হচ্ছে এ ব্যাপারে তোমাকে চিন্তিত হওয়া লাগবে না। বরং তোমার নিজের চিন্তা তোমাকেই করতে হবে।

** দরস:

কখনো যেন দরস মিস না হয়,এ ব্যাপারে সব সময় সতর্ক থাকবে। অসুস্থতা থাকবে , বাসায় সমস্যা থাকবে , বিভিন্ন অজুহাত থাকবে । কোনভাবেই যাতে মাদ্রাসায় দরস মিস না হয় এ ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। মাদ্রাসায় তুমি সবসময় উপস্থিত থাকার চেষ্টা করবে। অনুপস্থিত যেন না থাকতে হয় এজন্য ফিকির করবে।

দরস হলো তোমার যোগ্যতা হওয়ার মাধ্যম। দরসের মাধ্যমেই তুমি অজানা জিনিসগুলো জানতে থাকবে। দরসে ওস্তাদরা যেভাবে পড়ান,যেভাবে পরামর্শ দেন, সেভাবেই পড়া আদায় করার চেষ্টা করবে। দরসে দাঁড়িয়ে কিতাব পড়ার চেষ্টা করবে। দরসে কখনও ঘুমাবে না‌।যদি কখনও ঘুম চলে আসে, তাহলে চোখে পানি দিয়ে আসবে। দরসে ঘুমানো মাহরুমির আলামত।কারণ তুমি যদি ঘুমাও,তাহলে ওস্তাদ কী পড়াচ্ছেন,সেটা তো তুমি বুঝতে পারবে না। তখন তুমি ভুল বুঝবে। সব সময় চেষ্টা করবে দরসে আগে বসার জন্য। যদি মাদ্রাসা থেকে নিয়ম থাকে সিরিয়াল অনুযায়ী বসার, তাহলে তো মাদ্রাসার নিয়ম অনুযায়ী বসবে।যদি এরকম নিয়ম না থাকে, তাহলে চেষ্টা করবে সব সময় সামনে বসার জন্য। ওস্তাদরা যা প্রশ্ন করেন,বিনয়ের সাথে সেগুলোর উত্তর দেয়া। যখন ওস্তাদ দরসে কথা বলবেন,তখন মনোযোগ দিয়ে তার কথা শোনার চেষ্টা করা। ওস্তাদ যাতে বুঝেন, যে এই ছাত্রের ভিতরে আগ্রহ রয়েছে। তখন ওস্তাদ তার নিজের ভিতরেও আগ্রহ পয়দা হবে‌। যখন ওস্তাদ দরসে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করতে থাকবেন, তখন সেগুলো নোট করার চেষ্টা করা। খাতা-কলম সামনে রাখবে।দরসে ওস্তাদরা অনেক সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। কোন সময় নসীহত করেন।এগুলো সব তথ্য খাতায় নোট করে রাখার চেষ্টা করবে‌। ভবিষ্যতে এগুলো অনেক কাজে দিবে ইনশাআল্লাহ। যেই কিতাব যেই হুজুর পড়াবেন সেই কিতাবের ব্যাপারে ওই হুজুরের থেকেই পরামর্শ নিবে। কারণ এ ব্যাপারে তিনি ভাল বুঝে থাকবেন। যদি দরসে কোন বিষয় বুঝে না আসলে, তাহলে বিনয়ের সাথে ওস্তাদকে প্রশ্ন করবে। যদি হুজুর প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেন, তাহলে তো ভালো আর যদি বলেন পরে আসবে আমার কাছে।তাহলে পরে গিয়ে বিষয়টা বুঝে আসবে। কিন্তু তবুও কোন বিষয়ে অস্পষ্ট রাখবে না।

** তাকরার:

দরস শেষ হওয়ার পরে আজকে দরসে যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে,সেগুলো তাকরারে আলোচনা করবে। যদি মাদ্রাসার পক্ষ থেকে তাকরারের ফরিক ভাগ করে দেওয়া থাকে,তাহলে তো ভালো। আর যদি মাদ্রাসার পক্ষ থেকে তাকরারের কোন ফরিক ভাগ না থাকে, তাহলে তোমার  যাকে ভালো মনে হয় এমন দুইজন, তিনজন সাথী ভাইকে এক করে, তোমরা কিতাবগুলো তাকরার করে নিবে।আসলে তাকরারের প্রয়োজনীয়তা কেন? কারণ সাত আটটা দরসের মধ্যে সব দরসের পড়াগুলো যে ছাত্ররা স্পষ্টভাবে বুঝেছে, বিষয়টা এরকম নয়।কিছু বুঝেছে, কিছু অস্পষ্ট রয়েছে। কিছু শব্দের অর্থ জানতে পেরেছে, আর কিছু শব্দের অর্থ এখনও অজানা রয়েছে। হয়তো দরসের মাঝখানে চোখ লেগে গিয়েছিল, ওই পড়াটা তার অস্পষ্ট রয়ে গেছে।তো দরসের বিষয়গুলো যাতে পরিপূর্ণ স্পষ্ট হয়ে যায়, পরিপূর্ণ বুঝে আসে। সেটার জন্যই মূলত তাকরার। তাকরার করার মাধ্যমে বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়ে যায়।এজন্য চেষ্টা করবে, তুমি তাকরার করানোর জন্য। কারণ যে বেশি বেশি তাকরার করায়, কিতাব তার তত বেশি হল হয়ে যায়। কিতাব তার চোখের সামনে চলে আসে। প্রত্যেকটা লাইন তার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়। অন্যজন যখন তাকরার করাবে, তখন তার তাকরার মনোযোগ দিয়ে শুনবে।আর তুমি যখন তাকরার করাবে,যে বিষয়টা তাকরার করাবে,সেটা ভালো করে আয়ত্ত করে নিবে। নিজে দুই একবার অনুশীলন করে নেবে। যাতে উপস্থাপনা সহজ হয় এবং সময় নষ্ট না হয়।যদি কোন কিতাব তুমি তাকরার করাও, তাহলে তো দরসে অবশ্যই তোমাকে ভালোভাবে পড়া ধরতেই হবে। না হলে তুমি তাকরার করাবে কীভাবে। এজন্য ভাই, সবচেয়ে বেশি সুবিধা হয়, ছয় জন মিলে একটা তাকরারের ফরিক বানাবে এবং দরসে যেই কিতাব গুলো আছে, ছয়জনের মধ্যে ভাগ করে দিবে। সপ্তাহে ছয় দিন কে কোন কিতাব তাকরার করাবে, তোমরা ভাগ করে নিয়ে একেকদিন একেকজন একেক কিতাব তাকরার করাবে। তাহলে আশা করি তাকরার অনেক সুবিধা হবে।।

** মুতালাআ:

দরসে বসার আগে অবশ্যই কিতাবগুলো ভালোভাবে মুতালাআ করে নিবে, আগামীকাল দরসে কতটুকু পড়া হতে পারে,এটা তো তুমি অবশ্যই জানো। ততটুকু পড়া নিজে নিজে পড়ে নিবে। দরসের আগে মুতালাআ মানে কি? মুতালাআ করে দেখবে, তুমি কতটুকু বুঝেছ আর কতটুকু বোঝনি। বোঝা এবং না বোঝার মধ্যে একটা পার্থক্য থাকতে হবে। যতটুকু অংশ তুমি বুঝেছ, আগামীকাল দরসে দেখবে, ওস্তাদ যখন পড়াবে, তখন তোমার বুঝটা সঠিক হয়েছে কিনা‌। এটা দেখতে হবে। আর যতটুকু অংশ মুতালাআ করে বুঝো নাই,সেটা দরসে ওস্তাদ থেকে ধরে নিবে। এইটা হলো দরসের আগে মুতালাআ। তুমি যদি দরসের আগে মুতালাআ করে না বসো, তাহলে ঐ দরস তুমি ভালোভাবে বুঝবে না। কারণ আগে থেকে যদি জেহেনে কোন কিছুই না থাকে, হঠাৎ করে একটা বিষয় ধরলে, সহজে সেটা আয়ত্ত হয় না। তাই আগে থেকে তোমাকে মুতালাআ করে রাখতে হবে। অবশ্যই দরসে বসার আগে মুতালাআ করে বসবে। মুতালাআ করলে সবকিছু বুঝে আসবে না। এতোটুকু পার্থক্য করতে হবে শুধু, কতটুকু অংশ বুঝেছ আর কতটুকু অংশ বোঝনি।‌

হযরত আশরাফ আলী থানবী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: যদি কোন তালেবে ইলম তিনটি কাজ করে, তাহলে তার আলেম হওয়ার জিম্মাদার আমি  নেব। ১. মুতালাআ ২. দরস ৩. তাকরার।

যদি কেউ নিয়মিত এই তিনটা আমল করতে থাকে, তাহলে অবশ্যই সে একজন যোগ্য আলেম হবে। এই তিনটার কোন একটা যদি কেউ বাদ দেয়, তাহলে তার জন্য যোগ্য আলেম হওয়া সম্ভব নয়। অনেক কঠিন ব্যাপার।।

যখন তুমি মুতালাআ করবে,সামনে খাতা কলম রাখবে। কারণ যে যে অংশগুলো বুঝোনি, সেগুলো তুমি নোট করে রাখবে এবং দরসে সেগুলো প্রশ্ন  করবে।

এই হলো গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা।

*** নেজামুল আউকাত:

মাদ্রাসায় থাকা অবস্থায় একটা নিয়মের উপর থাকা উচিত। আমার সামনে একটা রুটিন থাকবে। কোন সময় কী করব এটা আমার রুটিনে লিখিত থাকবে। তাহলে আমার চলতে সহজ হবে। এটাকেই আরবীতে নেজামুল আউকাত বলে। যদি মাদ্রাসার পক্ষ থেকে এই নিয়ম থাকে তাহলে তো ভালো, অন্যথায় আমাকে নিজেই নিজের নেজামুল আউকাত বানিয়ে নিতে হবে। যদি আমার সামনে নেজামুল আওকাত না থাকে তাহলে আমার সময় কিভাবে নষ্ট হবে।সেটা আমিও বলতে পারব না। এজন্য নেজামুল আউকাত অনুযায়ী চলা প্রত্যেকটা তালেবে ইলম ভাইদের জন্য দায়িত্ব এবং কর্তব্য। নেজাম অনুযায়ী চললে জীবনটা আদর্শ জীবন হবে। এই নেজাম শুধু মাদ্রাসায় থাকা অবস্থায় নয়, মৃত্যু পর্যন্ত নেজামের উপর চলতে হয়। তাহলে জীবনটা ফুলের মত সুন্দর হয়। যেমন আশরাফ আলী থানবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনি সবসময় নিয়মের উপর চলতেন। কোন সময় কী করবেন?এটা তার লিখিত থাকত। মাদ্রাসার পক্ষ থেকে এই নেজামুল আউকাত না থাকলে তুমি নিজে একটা নেজামুল আউকাত বানিয়ে নেবে।যেমন:

ফজরের পর থেকে বারোটা পর্যন্ত: দরস

১২:০০ - ১২:২০ - ঘুমের প্রস্তুতি

১২:২০ - ১:৫০ - ঘুম

এরপর গোসল নামাজ খাওয়া এভাবে সময় অনুযায়ী নেজামুল আউকাত বানিয়ে নিবে। যোহরের পর তাকরার, মাগরিবের মুতালাআ। আবার কোন কিতাব কয়টা থেকে কয়টা পর্যন্ত পড়বে। এই সব কিছু যেন সময় অনুযায়ী তোমার খাতায় লেখা থাকে। এভাবে তুমি নিয়ম অনুযায়ী চলতে থাকবে। তাহলে তোমার নামাজ খাওয়া গোসল তোমার ব্যক্তিগত জরুরত এবং তোমার প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়গুলো, তোমার কোন কিতাব কখন পড়া লাগবে সবকিছুই নেজামের ভেতর ঢুকে গেল। এভাবে চলতে পারলে সময়ের অনেক হেফাজত হবে। সময় নষ্ট হবে না। যার জীবনে কোন নেজামুল আওকাত নেই, সে বুঝে উঠতে পারে না এখন কী করবে। কোন সময় কোন কিতাব পড়বে। যেমন একটা কিতাব সে মাগরিব থেকে এশা পর্যন্ত পড়ল। আর বাকি কিতাব গুলোর খবর নেই। এভাবে তার কিতাবী যোগ্যতাও হয়ে উঠে না। তোমার দরসে যতগুলো কিতাব পড়ানো হয়, সবগুলো কিতাবই নেজামুল আউকাতে ঢুকিয়ে ফেলবে। যদিও একেকটা কিতাব হতে পারে ২৫ মিনিট হবে অথবা ২০ মিনিট হবে। তুমি যদি ২০ মিনিটে এই একটা কিতাব ভালো করে পড়ো, তাহলে অনেক কিছুই অর্জন করা যাবে।

আশাকরি নেজামুল আউকাত এই বিষয়টি ভালোভাবে বুঝেছো।

*** জীবনে একজন রাহবার বানানো:

প্রত্যেকটা ব্যক্তির জীবনে উচিত, সে একজনের পরামর্শ অনুযায়ী চলবে। নিজের মন মত বা নিজ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলবে না। নিজেকে কারো কাছে সঁপে দিবে। বিশেষ করে কোন তালেবে ইলম যদি নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলে, নিজের মন মত চলে, যখন যা পড়তে মনে চায়,তখন তা পড়ে। তাহলে সে জীবনে বড় কিছু হতে পারবে না। আল্লাহ না করুক, গোমরাহ হওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। যেমন মওদুদী। সে সবসময় নিজেরটা নিজেই করত। তার কোন পরামর্শদাতা ছিল না। তার কোন উস্তাদ ছিল না। যার কারণে সে আজ গোমরাহ হয়েছে। তাই ভাই,, জীবনে যদি উন্নতি করতে চাও, সফলতার পথ দেখতে চাও, হক্কানী আলেম হতে চাও, তাহলে অবশ্যই একজনকে মেনে চলতে হবে তোমাকে। যার কাছে তুমি তোমার সবকিছু খুলে বলবে। তোমার যখন কোনো বিষয়ে পরামর্শ লাগবে,তখন সবকিছু তাকে জানাবে। তারপর তার কথা অনুযায়ী প্রত্যেকটা সেকেন্ড অতিবাহিত করবে। তিনি যখন, যা, যেভাবে বলেন, ঠিক তোমাকেও তখন, তা,সেভাবেই পালন করতে হবে।তিনি যে কিতাব যেভাবে পড়তে বলবেন, তোমাকেও সেই কিতাব সেভাবেই পড়তে হবে। যেই কিতাব পড়তে বলবেন, সেটা পড়তে হবে। যে কিতাব পড়া থেকে নিষেধ করবেন, সেটা পড়া থেকে বিরত থাকতে হবে। আমাদের পূর্বে যারা আকাবির হয়েছিলেন, তারা কিন্তু নিজের জীবনকে তার শায়েখের কাছে সোপর্দ করে দিয়েছিলেন। তারা কখনো নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলেন নি। সব সময় তার শায়েখের পরামর্শ অনুযায়ী চলেছেন। তাই তারা আজ জীবনে সফল হয়েছেন। তারা এত বড় বড় ইমাম কিভাবে হলেন? কখনো তারা মন চায় এরকম কিছু করত না, বরং শায়েখ যখন যেটা বলতেন সেটাই করতেন। ভালো লাগুক আর না লাগুক।

এখন প্রশ্ন হল,কার পরামর্শ অনুযায়ী আমি চলব? আমি যে মাদ্রাসায় পড়ছি, সেখানকার ওস্তাদদের মধ্য হতে যাকে আমার ভালো লাগবে, যে সব সময় কিতাব মুতালাআ করে, খুব আমলদার মানুষ, এবং খুব ইলমী মানুষ, যাকে আমি আমার মনের কথা খুলে বলতে পারব,যার কথা অনুযায়ী আমি নিজেকে সাজাতে পারব। আবার তিনিও আমাকে স্বাচ্ছন্দে পরামর্শ দিবেন। আমি যদি নিজেকে তার কাছে সোপর্দ করি তিনিও স্বাচ্ছন্দে আমাকে গ্রহণ করে নিবেন। তিনি নিজের সন্তানের মতই আমাকে পরামর্শ দিয়ে জীবনকে পরিচালনা করবেন। এমন ওস্তাদের নিকটই আমি নিজের জীবনকে সোপর্দ করব।

এখন যদি এমন ওস্তাদ আমি পেয়ে যাই, তাহলে কিভাবে নিজেকে পেশ করব তার সামনে? সময় সুযোগ অনুযায়ী তার সাথে আমি দেখা করব। এবং গিয়ে বলব। হুজুর: আমি চাই আমার জীবনকে আপনার কাছে সোপর্দ করতে। আমি আপনার পরামর্শ অনুযায়ী চলতে চাই। আপনি যেভাবেই আমাকে পরামর্শ দিবেন সেভাবেই আমি চলব। আমি আপনার কথার বাইরে যাব না। যখন যা করতে বলবেন, তখন তাই করব। যখন যেটা পড়তে বলবেন তখন সেটাই পড়ব। যে বই পড়তে দিবেন সেই বই পড়ব। এক কথায় আমার জীবনের প্রতিটা সেকেন্ড আপনার কথা মত চলবে। এভাবে আমি নিজেকে পেশ করব তার সামনে। আশা করি তিনিও তোমাকে গ্রহণ করে নিবেন। এরপর তিনি তোমাকে যেভাবে দিকনির্দেশনা দেন সেভাবে তুমি চলা শুরু করবে। প্রত্যেক সপ্তাহে একবার হলেও তার সাথে সাক্ষাৎ করবে। যে কোন সমস্যা তুমি তার কাছে শেয়ার করবে। মনে কর তোমার কোন রোগ হয়েছে, যেমন পড়ায় মন বসছে না, কার সাথে গল্প করতে ভালো লাগছে, 

চলবে ইনশাআল্লাহ....

Comments

Popular posts from this blog

“দ্বীনের দীপ্তি: ইসলামের মূল শিক্ষা”

স্মৃতির প্রাঙ্গণ ও মাধুর্যের ঋণ

📘 প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি