হে তালেবে ইলম তোমাকে
হে তালেবে ইলম তোমাকে ৩য় পর্ব
মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা
ঘোরাফেরা করতে ভালো লাগছে, দরসে ঘুম আসে, দরসের পড়া বুঝে আসছে না, তাকরারে বুঝে আসছে না, নামাজে মন বসে না, কোন একটা গুনাহে লিপ্ত আছি ইত্যাদি যত সমস্যা রয়েছে, সব সমস্যাই তুমি তার কাছে গিয়ে শেয়ার করবে। দেখবে অবশ্যই তোমাকে তিনি সমাধানের পথ দেখাবেন। তখন তুমি তার পরামর্শ অনুযায়ী চললে, দেখবে সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। যাকে আমরা সংক্ষেপে মুরুব্বি বলে থাকি। আমার জীবনে অবশ্যই একজন মুরুব্বী লাগবে। যিনি আমাকে দেখাশোনা করবেন। যার পরামর্শ অনুযায়ী আমার সবকিছু চলবে। তিনি যদি বলেন বন্ধে বাসায় না গিয়ে, মাদ্রাসায় কিতাব মুতালাআ করতে, আমি সেটাই করতে বাধ্য। তিনি যদি আমাকে বলেন, এখন এই কিতাবটা না পড়ে ওই কিতাবটা পড়ো, তাহলে সেটার মধ্যেই আমার কল্যাণ। আশা করি বিষয়টা তুমি বুঝতে পেরেছ। অবশ্যই আগামী বছর থেকে এরকম কাউকে মুরুব্বী বানাবে। আর বেশি দেরি করবে না। যদি কিতাবখানার চার পাঁচ বছর পাড়ি দিয়ে দাও, তাহলে আর কবে মুরুব্বী বানাবে। এজন্য উচিত, মিজান থেকেই কারো পরামর্শ অনুযায়ী চলা, মিজান থেকেই নিজের জীবনকে তার কাছে সোপর্দ করে দেওয়া। আল্লাহ তোমাকে তৌফিক দান করুন।
** আদর্শ তালেবে ইলম হওয়ার চেষ্টা করা:
ছাত্র জীবনেই আমাকে আদর্শ হয়ে গড়ে উঠতে হবে। সবসময় পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে থাকতে হবে। ছাত্রদের সাথে কথাবার্তা শুধুমাত্র পড়াশোনা কেন্দ্রিক হবে। অন্য কোন কথাবার্তা তাদের সাথে বলবো না। প্রশ্ন উত্তর হবে শুধু পড়াশুনা নিয়েই। সবসময় শুধু ফিকিরে থাকবে, পড়াশোনা কিভাবে উন্নতি হতে পারে। হাতে চলতে উঠতে বসতে খেতে খেতে শুধু ফিকির করবে। চুপচাপ থাকার চেষ্টা করবে বেশিরভাগ সময়। যেই পড়াটা কিতাবে পড়েছ সেই পড়াটা নিয়ে ফিকির করবে। মনে মনে পড়াগুলো আউড়াতে থাকবে। ফাঁকা সময় পেয়েছো তো সাথীদেরকে কিতাবের পড়া নিয়ে প্রশ্ন করবে। যদি কেউ পড়াশোনায় একটু দুর্বল হয়, তাহলে তাকে পড়া বোঝানোর জন্য চেষ্টা করবে। তুমি খুঁজবে তোমার জামাতে দুর্বল ছাত্র কারা আছে, তাদেরকে তাদের দুর্বল বিষয়ে দূর করার চেষ্টা করবে। তাদেরকে তামরিন করাবে, তাদেরকে কিতাব বুঝিয়ে দিবে। নিজেও খুব ভালোভাবে কিতাব বোঝার চেষ্টা করবে, ভুল এবং অশুদ্ধ বুঝা যেন না হয়। তোমার বোঝাটা সঠিক হয়েছে কিনা সেটা ওস্তাদের মাধ্যমে যাচাই করে নিবে। যেই কিতাব যেই ওস্তাদ যেই কিতাব পড়াবে সেই ওস্তাদের পরামর্শ নিয়েই ওই কিতাব হল করবে। ওই কিতাবের ব্যাপারে কোন প্রশ্ন থাকলে, সেটা ওই কিতাব পড়ায় এমন ওস্তাদকেই জিজ্ঞাসা করবে। আমি এখন এমন দুটি গুণের কথা বলব যেই দুটি গুণ যদি অর্জন করতে পারো, তাহলে সবার চোখে তুমি মেহনতী ছাত্র হিসেবে গণ্য হবে। সবাই তোমাকে চাইবে। ওস্তাদদের মাশওয়ারায় তোমার ব্যাপারে কথা হবে। ছাত্ররা পরস্পরের মাঝে তোমাকে নিয়ে আলাপ-আলোচনা করবে যে সে তো কিতাব অনেক ভালো বোঝে, সে কিতাব অনেক ভালো বোঝাতেও পারে। পড়া ছাড়া আর কোন কথা তার মুখ থেকে বের হয় না। সারাদিনের ২৪ টা ঘন্টা হয়তো তার পড়া বা লেখায় কাটে। খাওয়া ঘুম এবং জরুরী প্রয়োজন ছাড়া। ছাত্ররা বলবে এই কথা, যখনই তার দিকে তাকাই, তখনই দেখি সে কোন না কোন পড়ায় ব্যস্ত আছে। সেই দুটি গুণ হলো:
১. ছাত্রদের মাঝে তোমার অবস্থান সৃষ্টি করা।
২. ওস্তাদদের মাঝে তোমার অবস্থান সৃষ্টি করা।
ছাত্রদের মাঝে তোমার অবস্থান তো সৃষ্টি হবে এভাবে যে, ছাত্রদেরকে পড়া বোঝাবার মাধ্যমে, নিজে সবসময় পড়াশোনার মাঝে লেখা থাকার মাধ্যমে। সব সময় কিতাব নিয়ে পড়ে থাকার কারণে। তোমার যোগ্যতা এমন স্তরে পৌঁছাতে হবে যে, ছাত্রদের যেকোনো সমস্যা যাতে তোমার কাছে এসে বুঝে নিতে পারে । মনে কর কেউ তারকীব পারে না, সে তোমার কাছে এসে তারকিব বুঝে নিবে। কারো বাক্যর ব্যবহার বুঝতে সমস্যা, সে তোমার কাছে এসে ব্যবহারটা বুঝে নিবে। কেউ কোন মাসআলায় আটকে গিয়েছে, কিতাবের ইবারত বুঝছে না, সে তোমার কাছে এসে ইবারত বুঝে নেবে।
এখন বল, এই যোগ্যতা অর্জন করতে তোমার কী পরিমাণ মেহনত প্রয়োজন। কী পরিমাণ পরিশ্রম প্রয়োজন। কী পরিমাণ কিতাব হল থাকা প্রয়োজন।
সেই অনুযায়ী তুমিও মেহনত করে যাবে।
২. আর ওস্তাদদের মাঝে অবস্থান সৃষ্টি হবে এভাবে, সব ওস্তাদদের সাথে সম্পর্ক রাখবে। বিশেষ করে যারা তোমাকে দরস করায়, তাদের সাথে সপ্তাহে একবার করে হলেও সাক্ষাৎ করবে। তাদের সাথে সব সময় সম্পর্ক মজবুত রাখার চেষ্টা করবে। বন্ধে বাসায় আসলে তাদের সাথে ফোনে যোগাযোগ করবে। এতে তারা তোমার উপর অনেক খুশি হবে। তোমাকে নিয়ে তারা গর্ব করবে। যখন দরসে বসবে, ওস্তাদরা দরসে যা জিজ্ঞাসা করবেন, তার সঠিক উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবে। তুমিও দরসে বিভিন্ন প্রশ্ন করবে। কোন কিছু বুঝে না আসলে সেটাও প্রশ্ন করবে। দরসে পড়ানোর মাঝে সব সময় উস্তাদের খেয়াল রাখবে। তিনি যেভাবে যেটা বলেন সেভাবে সেটা মনে রাখার চেষ্টা করবে। মনে না থাকলে খাতা নিয়ে নোট করবে। ওস্তাদ যে কাজ দরসের মধ্যে দিবেন, সে কাজ করে নিয়ে আসবে। যেমন মনে করো, দরসে বলল, আগামীকাল তোমরা نعم و بئس দিয়ে দশটা বাক্য লিখে নিয়ে আসবে। কেউ লিখুক আর না লেখুক তুমি অবশ্যই দশটা বাক্য লিখে নিয়ে আসবে। অর্থাৎ ওস্তাদ যে ধরনের কাজই দরসের বাইরে দেক, সেটা পরিপূর্ণভাবে তুমি আদায় করে নিয়ে আসার চেষ্টা করবে। হয়তো কখনো ওস্তাদ বলবেন কোন একটা কিতাব মুতালাআ করে আসতে। তুমি সেটা মুতালাআ করে আসবে। এভাবে যখন চলতে থাকবে, তখন ওস্তাদদের ভিতরে তোমার ভালোবাসা সৃষ্টি হবে। তখন ওস্তাদরা তোমাকে দিয়ে অনেক কাজ নিবেন। কোন ওস্তাদ বলবেন একটা মাসআলা তাহকিক করে নিয়ে আসার জন্য। কোন ওস্তাদ বলবেন, নাহুর এই বিষয়টা নাহুর কিতাব থেকে খুঁজে বের করার জন্য। এভাবে বিভিন্ন ওস্তাদ তোমাকে দ্বারা ইলমী কাজ নিবেন। কোন ওস্তাদ তোমাকে মাকালা লিখে নিয়ে আসতে বলবেন। এভাবে অনেক কাজ তোমার ভাগ্যে জুটবে। তুমি কি চাওনা তোমার ইলমি জীবনটা এরকমই হোক। সবাই তোমার প্রশংসা করুক। ওস্তাদের পরামর্শে তোমার বিষয়টা আলোচনা হবে। এক সময় দেখবে, তুমি বড় জামাতে উঠবে, আর নিচের জামাতের কিছু কাজ ওস্তাদ তোমাকে দিয়ে করাবে। এটার জন্য অনেক যোগ্যতার প্রয়োজন। আর এই যোগ্যতাই অর্জন হবে মেহনতের মাধ্যমে এবং দোয়ার মাধ্যমে।
*** রোজনামচা ও মাকালা:
এই দুই শব্দের সাথে আমাদের পরিচিতি অনেক কম। আসলে প্রত্যেকটা তালেবে ইলমের জন্য উচিত, এই দুই শব্দ তার সাথে পরিচয় থাকা। রোজনামচা মানে কী বুঝলাম?রোজনামচা মানে হল আমার সারাদিনের ঘটে যাওয়া যে ঘটনাগুলো রয়েছে, সেগুলো খাতায় লিপিবদ্ধ করা। রোজনামচার জন্য আমি একটা খাতা কিনব এবং প্রতিদিন একটা সময় ঠিক করে কমপক্ষে আধা পৃষ্ঠা কিছু লিখব। এখন কী লিখব আমি। আমার মনে যা আছে, আমি তাই লিখব। হতে পারে আমার সারা দিনের ঘটনা, হতে পারে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় কোন ভিক্ষুকের ভিক্ষার ঘটনা, আজকে দরসে কোন উস্তাদ কোন কিছু বলেছেন, আজকে আমার ভিতর অনেক অনুভূতি, সেটাকে তুলে ধরা ইত্যাদি যে কোন বিষয়ে আমি খাতায় উঠাতে পারি। আজকে মাদ্রাসায় কোন মেহমান এসেছে, সেই বিষয়টা লিখে রাখা। আজকের দরসে হুজুর প্রশ্ন করেছেন, আমি একাই উত্তর দিতে পেরেছি। সেটা লিখে রাখা। অর্থাৎ আমার মনের সুখ দুঃখ আমি প্রকাশ করব কলমে এবং কাগজে।
এটাকে বলা হয় রোজনামচা। আর মাকালা মানে হল প্রবন্ধ। বড় হলে আমি এই বিষয়ে আরো কিছু জানতে পারব। তবে সংক্ষেপে বলে রাখি: মাকালা মানে হল কোন একটা বিষয়ের উপরে লেখা। যেমন ধরো: নামাজ, এই বিষয়ে তুমি একটা প্রবন্ধ লিখলে।তা এক পৃষ্ঠা হতে পারে, দুই পৃষ্ঠা হতে পারে। আবার কয়েক পৃষ্ঠা ব্যাপিও হতে পারে।
যদি সম্ভব হয় আগামী বছর থেকেই রোজনামচা লেখা শুরু করবে অবশ্যই। রোজনামচা আরবি বাংলা উর্দু ইংরেজি সব ভাষায় লেখা যায়। যে ভাষায় লেখা হবে ওই ভাষাটা তার জন্য সহজে আয়ত্ত হয়ে যাবে। তাই আমি আবেদন করব, আরবি এবং বাংলা রোজনামচা যাতে বেশি বেশি লেখা হয়। তাহলে আমি ভাষাটা হাতের মুঠোয় হয়ে চলে আসবে। প্রতিদিন রোজনামচা লিখতে হবে। হোক না অল্প তবুও। দিন তারিখ সহ রোজনামচা লিখে রাখবে। এবং সপ্তাহে একবার হলেও তোমার মুরুব্বীকে এই রোজনামচা দেখাবে। তাহলে তোমার জন্য এটা অনেক ভালো হবে। ওস্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী তুমি সামনে চলতে থাকবে। অনেক ছাত্রের মধ্যে এই প্রবণতা দেখা যায় যে তারা নিজের থেকে বাংলা সাহিত্য শেখা শুরু করে। আবার কেউ কেউ তো ইংরেজি এবং কম্পিউটার শিখা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যায়। আর ওই দিকে দরসের পড়া সে পড়ে না। দরসের পড়া বাদ দিয়ে অন্যান্য পড়া নিয়ে সে ব্যস্ত থাকে। এতে কাঙ্খিত যে উদ্দেশ্যে সে এসেছে, সেটা তার সফল হয় না। তাই ওস্তাদের পরামর্শ ছাড়া বাংলা সাহিত্য কিংবা ইংরেজি বা কম্পিউটার কোন কিছুই শেখা যাবে না। ওস্তাদ যেটা ভালো মনে করবেন, সেটাই তোমাকে পরামর্শ দিবেন এবং সেই পরামর্শ অনুযায়ী তুমি চলবে। নিজ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী না চলার চেষ্টা করবে।
*** সুন্নাহ তরীকায় চলার চেষ্টা করবে:
প্রতিটা আমল সুন্নাহ তরীকায় করবে। যেমন প্রত্যেক নামাজের আগে মিসওয়াক করবে। ফজরের নামাজের আগে ব্রাশ না করে, মেসওয়াক করে নামাজে আসবে। সুন্নত তরীকায় অজু করবে এবং নামাজ পড়বে।নামাজে তাড়াহুড়া বা সুন্নত পরিপন্থী কোন কাজ করবে না। তোমার হাঁটা চলা যাতে ধীর স্থির ভাবে হয়। শব্দ করে হাঁটবে না। এমন ভাবে চলাফেরা করবে না যাতে অন্যান্যরা তোমাকে অহংকারী ভেবে বসে। বিনয়ের সাথে সবসময় চলাফেরা করবে এবং কথাবার্তা বলবে। কেউ কথা বলতে চাইলে তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবে। মাদ্রাসার স্টাফ যারা থাকবে, তাদের সাথে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত কোন কথা বলবে না। সকাল সন্ধ্যার আমলগুলো পরিপূর্ণভাবে আদায় করবে। প্রত্যেকটা জায়গার নির্দিষ্ট দোয়াগুলো পড়বে। যেমন মসজিদে আসা যাওয়ার দোয়া।ইস্তেনজায় আসা যাওয়ার দোয়া ইত্যাদি। সবসময় সালাম দিয়ে চলাফেরার চেষ্টা করবে। প্রচুর সালাম দিবে একে অপরকে। সামনে ওস্তাদ ছাত্র যাকেই পাবে তাকেই সালাম দিবে। শুদ্ধ ভাষায় সালাম দেওয়ার চেষ্টা করবে। তাড়াহুড়ো করে সালাম দিবে না। প্রত্যেকটা কদম খুব সতর্কের সাথে ফেলবে। তোমার কোন কদমে যাতে, কেউ ভুল ধরতে না পারে। এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার চেষ্টা কর। ওস্তাদ ছাত্র কারো সাথে কখনো বেয়াদবি করবে না। রাত জেগে পড়বে না প্রাথমিক অবস্থায়। যদি ওস্তাদ পরামর্শ দেন রাতে পড়ার জন্য, তাহলে যতটুকু সময় পড়ার জন্য বলবেন ততটুকু সময় পড়বে। এর চেয়ে বেশি রাত জাগবে না। অনেক ছাত্র এমন আছে, যারা রাতে লম্বা সময় পড়ে, কিন্তু পরের দিন দরসে ঘুমায়। মাদ্রাসার বাহিরে ঘোরাফেরা করবে না। সব সময় মাদ্রাসার ভিতরেই অবস্থান করবে। কোন প্রয়োজনে বাহিরে যেতে হলে, দ্রুত সময়ের মধ্যে আবার মাদ্রাসায় চলে আসবে। মাদ্রাসায় কিংবা মাদ্রাসার বাহিরে, অথবা বন্ধে বাসায় আসলে, কোনভাবেই খারাপ ছেলেদের সাথে চলাফেরা করবে না, সিনেমা, নাটক, ছবি,মুভি আপত্তিকর জিনিস কখনও দেখবে না।চোখকে হেফাজত করবে,এরকম জিনিস থেকে। অন্যের সমালোচনায় যোগ দিবে না। নিজে অন্যের দোষ কারো কাছে শেয়ার করবে না এবং কারো কাছ থেকে অন্যর দোষ শুনবেও না। পাক সাফ থাকার চেষ্টা করবে সব সময়।
বন্ধু যখন বাসায় আসবে, তখন বাসায় এসে বাসার লোকদের সাথে ভালো আচরণ করবে। এলাকার লোকদের সাথে সালামে কালামে চলবে। এলাকার মানুষদেরকে সময় দিবে। তাদেরকে অজু গোসল তায়াম্মুম প্রয়োজনীয় মাসালাগুলো শিক্ষা দিবে। তাদেরকে দিনের পথে উঠানোর জন্য ফিকির করবে। বাসায় এসে মা-বাবার খেদমত করবে। মাদ্রাসায় যেমন নিজের কাপড় নিজে ধুইতো নিজের প্রয়োজন নিজে পুরা করত বাসায় এসেও নিজের কাপড় নিজে ধুবে এবং নিজের প্রয়োজন নিজে পুরা করবে। মা যদিও কাপড় দিয়ে দিতে চাইবে, এভাবে বলবে আম্মা মাদ্রাসায় থাকা অবস্থায় তো তোমার কোন খেদমত করতে পারিনি, তো বাসায় এসেছি এখন তোমার খেদমত করব। মসজিদে বেশি বেশি সময় দেওয়ার চেষ্টা করবে। বাসায় এসেও কিছু মুতালাআর চেষ্টা রাখবে।বইয়ের একটা লিস্ট বানাবে উস্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী। একটার পর একটা বই মুতালাআ করে শেষ করবে। মাদ্রাসায় ফাকা সময়ে,বা মাসিক বিরতিতে,শুয়ে শুয়ে, বন্ধে বাসায় এসে লিস্টে থাকা সেই বইগুলো পড়তে থাকবে।এতে ফাকা সময়গুলো যেমন কাজে লেগে যাবে, ঠিক তেমনি কিছু ইলমও বৃদ্ধি পাবে।
চলবে ইনশাআল্লাহ.......
Comments
Post a Comment