النكاح نصف الدين - তাহকীকি আলোচনা :
النكاح نصف الدين - তাহকীকি আলোচনা :
মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা
হাদীসের মূল পাঠ ও মান
"إذا تزوج العبد فقد استكمل نصف الدين، فليتق الله في النصف الباقي"
উৎস: আল-বাইহাকী, "শু'আবুল ঈমান"।
হাদীসের মান: এই হাদীসটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হলেও, অধিকাংশ মুহাদ্দিসগণ একে দুর্বল (ضعيف) হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, ইমাম ইবনু হাজার আল-আসকালানী এবং ইমাম ইবনু জাওযী এই হাদীসটির সনদকে দুর্বল বলেছেন।
অর্থ ও ব্যাখ্যা
এই হাদীসের মূল বার্তা হলো, বিবাহ মানুষকে অর্ধেক দ্বীন পূর্ণ করতে সাহায্য করে। কারণ, বিবাহ মানুষের চরিত্র সংযত করে, দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং পবিত্রতা রক্ষা করে।
উৎস: ইসলামিক ওয়েব ফতোয়া: https://www.islamweb.net/ar/fatwa/106368
প্রাসঙ্গিক কিতাবসমূহ থেকে হাওলা
- আল-বাইহাকী, "শু'আবুল ঈমান"।
- আল-হাকিম, "আল-মুস্তাদরাক"।
- ইবনু জাওযী, "আল-ইলাল আল-মুতানাহিয়া"।
- ইবনু হাজার আল-আসকালানী, "আল-কাফি আশ-শাফি"।
- আল-আলবানী, "সাহিহ আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব"।
সুতরাং النكاح نصف الدين
হাদীসের মূল পাঠ ও রেফারেন্স:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«إِذَا تَزَوَّجَ الْعَبْدُ فَقَدِ اسْتَكْمَلَ نِصْفَ الدِّينِ، فَلْيَتَّقِ اللَّهَ فِي النِّصْفِ الْبَاقِي»
(বায়হাকি, শু‘আবুল ঈমান, হাদীস: ٥٤٧٦; সহিহ হিসনে মুসলিমে এর শাব্দিক সমর্থনও আছে)
অর্থ: "যখন কোনো বান্দা বিয়ে করে, সে দ্বীনের অর্ধেক পূর্ণ করে ফেলে। অতএব, অবশিষ্ট অর্ধেক বিষয়ে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে।"
তাহকীকি বিশ্লেষণ:
১. হাদীসের সনদ:
এই হাদীসটি হাসান বা গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে পড়ে। যদিও সরাসরি সহীহ বুখারী বা মুসলিমে নেই, তবে বায়হাকি, শু‘আবুল ঈমান, মিশকাত এবং তাবরানী প্রমুখ গ্রন্থে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে।
২. অর্থ ও মর্মবাণী:
‘দ্বীনের অর্ধেক’ বলতে এখানে ইবাদত ও চরিত্রসংক্রান্ত দিকগুলোর সমষ্টি বোঝানো হয়েছে। বিয়ে মানুষের চরিত্র ও লজ্জাশীলতা, দৃষ্টির হেফাজত, শয়তানের ফিতনা থেকে বাঁচা এবং নফসের পরিশুদ্ধির একটি বিশাল মাধ্যম। তাই এটি দ্বীনের অর্ধেক পূর্ণ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
৩. ইমাম গাযযালি (রহ.) বলেন:
“বিয়ে শুধু শরীরের চাহিদা পূরণের জন্য নয়, বরং এটি তাজকিয়াতুন্নাফস, সহনশীলতা, দয়া, দায়িত্ববোধ ইত্যাদি গুণ অর্জনের মাধ্যম।”
(ইহ্যাউ উলুমিদ্দীন, কিতাবু আদাবিন নিকাহ)
৪. উলামায়ে কেরামের ব্যাখ্যা
ইমাম নববী (রহ.) বলেন: “এই হাদীস মানুষের খারাপ প্রবৃত্তির নিয়ন্ত্রণ এবং তাকওয়া বৃদ্ধির দিক নির্দেশ করে।”
হাফিয ইবনে হাজার (রহ.) বলেন: “বিয়ে করলে মানুষ বহু গুনাহ থেকে বেঁচে যায়, আর তাতে ইবাদতের ক্ষেত্রে এক ধরণের আত্মিক প্রশান্তি আসে।”
সমসাময়িক গুরুত্ব:
আজকের সমাজে অশ্লীলতা, জিনা, প্রেম, দৃষ্টির ফিতনা ইত্যাদির সর্বনাশা ঢেউয়ে আত্মরক্ষা করার জন্য এই হাদীস অতি তাৎপর্যপূর্ণ। তাড়াতাড়ি বিয়ে করা নববী তরীকা ও সুন্নাহ। দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের কল্যাণ এতে নিহিত।
النكاح نصف الدين — এ কথাটি শুধু একটি হাদীস নয়, বরং এটি মুসলিম জীবনে পারিবারিক শুদ্ধতা, সামাজিক স্থিতি ও আত্মিক প্রশান্তির জন্য এক বাস্তব গাইডলাইন। তাই এ বিষয়ে অবহেলা নয়, বরং সঠিক নিয়মে ও আল্লাহভীতির সাথে বিয়ে করা আমাদের দ্বীনি কর্তব্য।
যদিও হাদীসটির সনদ দুর্বল, তবে এর বার্তা ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিবাহ মানুষের চরিত্র গঠনে, পবিত্রতা রক্ষায় এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Comments
Post a Comment