মজার একটি মাদ্রাসা-গল্প
মজার একটি মাদ্রাসা-গল্প
গল্পটা শুনে যে কেউই হাসবেন!
এই গল্পটা বলেছেন বর্তমান জামিয়াতুন নূর আল-ইসলামিয়া, নারায়ণগঞ্জ-এর ওস্তাদ এবং اتحاف السائل এর লেখক, প্রিয় হুজুর মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন সাহেব।
গত বছর যখন স্কুলের বইগুলোর মাঝে পরিবর্তন ঘটল, তখন দেখা গেল পুরো বইগুলো শুধু ছক দিয়ে ভরা! শিক্ষার মান পড়ে যেতে লাগল, ভুলে ভরে গেল পৃষ্ঠা। ইসলামের পরিপন্থী বিষয়ও ঢুকে পড়ল পাতায় পাতায়।
বই মানে এখন ছক! ছক পূরণ করলেই পাশ! শিখার কিছু নেই, যোগ্যতার তো প্রশ্নই আসে না।
আমি ঢাকা থেকে দেশে ফিরছিলাম। পাশেই বসেছিল এক ছাত্র, ক্লাস ৯-এ পড়ে। সে মন খুলে কিছু কথা বলল।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, "ভাইয়া, কোন ক্লাসে পড়?"
সে বলল, "আমি ক্লাস ৯-এ পড়ি। এখনও নতুন বই পাইনি। সংস্কার চলছে তাই দেরি। আগের বছরের ভাইদের থেকে বই ধার করে পড়ছি।"
তার কথা ছিল: "আমি ক্লাস ৯-এর অংক কীভাবে করব? ক্লাস ৬, ৭, ৮ — তিন বছরই তো অংক ছিল না! ক্লাসই হতো না। এখন যোগ্যতা গড়ে ওঠেনি ক্লাস ৯-এর মতো কঠিন বিষয়ের জন্য।"
যাই হোক, মূল গল্পে আসি—
স্কুলের এসব নতুন বইগুলো সংগ্রহ করে মারকাযুদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়া, ঢাকা। তারা ভুলগুলো বের করে ফেলে। ইসলামের পরিপন্থী বিষয়গুলো চিহ্নিত করে।
তখন সরকারের এক ব্যক্তি বলল, “মাদ্রাসাওয়ালারা আমাদের বইয়ের ভুল ধরছে? ঠিক আছে, আমরাও তাদের বইয়ের ভুল ধরব।”
সে ছুটে গেল বাংলাবাজার। মাকতাবাতুত তাকওয়া থেকে চাইল একটি বই। দোকানদার তাকে দিল مختصر المعاني।
বইটা হাতে নিয়ে সে তো হতবাক! কিছুই বুঝতে পারছে না। চোখ কপালে, মুখ হা করে তাকিয়ে আছে! পড়া তো দূরের কথা, কীভাবে শুরু করবে সেটাও বুঝে না।
সে কি না মাদ্রাসার ভুল ধরবে? এই বই তো শরহে বেকায়া জামাতে পড়ানো হয়! কঠিন, দুর্বোধ্য আর চিন্তাশীল কিতাব। বহু মেহনত করতে হয় বোঝার জন্য।
এই গল্প পড়ে শুধু তারাই হাসবে, যারা মাদ্রাসায় পড়ে। অন্য কেউ এই মজাটা বুঝবেই না!
Comments
Post a Comment