রোদেলা দুপুরে তোমাকে স্মরণ হে দয়াময়
রোদের তাপ ও জাহান্নামের ভাবনা: একটি আত্মজিজ্ঞাসা
মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহার কলমে
দুপুরের কড়া রোদ যখন গায়ে এসে লাগে, শরীরের প্রতিটি কোষ যেন জ্বলতে থাকে, তখন অনেকেই বলে ফেলি—"এই রোদই যদি এমন হয়, তবে জাহান্নামের আগুন কত ভয়ানক!"
এই একটি বাক্য আমাদের হৃদয়ে গভীর এক প্রশ্ন জাগায়—আমরা কি সত্যিই জাহান্নামের আগুন নিয়ে চিন্তা করি? আমরা কি জানি সে আগুন কতটা ভয়াবহ? আর এই চিন্তা কি আমাদের জীবনে কিছু পরিবর্তন আনে?
জাহান্নামের আগুন—আল্লাহর সতর্কবার্তা
পবিত্র কুরআনে এবং হাদীসে জাহান্নামের আগুনকে এমনভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যা মানুষ কল্পনাও করতে পারে না। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:
> “তোমরা যে আগুন জ্বালাও, তা জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের একটি অংশ।”
(সহীহ বুখারী)
মানুষের বানানো আগুন, দুপুরের রোদ কিংবা আগ্নেয়গিরির তাপ সবই আল্লাহর সৃষ্টি। কিন্তু জাহান্নামের আগুন—তা ভয়াবহতার এক ভিন্ন মাত্রা।
দুপুরের রোদের শিক্ষণীয় দিক
বাংলাদেশের গরমকাল, বিশেষ করে রমজান মাসের রোদ যখন শরীরকে পুড়িয়ে দেয়, তখন আমাদের উচিত নিজের ভেতর এই ভাবনাকে জাগ্রত করা—এই গরমেও যদি কষ্ট হয়, তবে জাহান্নামের উত্তাপ কত ভয়ানক হবে? রোদের কষ্টকে শুধু শারীরিক নয়, বরং আত্মিক জাগরণে রূপ দেওয়া উচিত।
রোদের সেই কষ্ট যদি আমাকে গোনাহ থেকে ফিরিয়ে দেয়, তাহলে এই কষ্টও বরকতের কারণ হয়ে উঠবে।
কীভাবে এই অনুভূতি কাজে লাগাবো?
১. গোনাহ থেকে বেঁচে থাকি:
যখনি কোনো গুনাহ করতে মন চায়, তখন রোদের কষ্ট স্মরণ করে নিজেকে বোঝাও—“একটুখানি মজা কিন্তু চিরন্তন আগুনের দিকে টেনে নিতে পারে।”
2. তাওবা ও ইস্তেগফার করি:
গরমের দিনে ওজু করে দুই রাকাআত নফল সালাত পড়ো, আর অন্তর থেকে বলো—“হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো।”
3. সদকা ও সাহায্যে এগিয়ে আসি:
গরমে কষ্ট পাওয়া মানুষদের জন্য ঠাণ্ডা পানি, ছায়া বা সাহায্য দান করা—জাহান্নাম থেকে মুক্তির পথ হতে পারে।
রোদ যেন শুধু ঘাম ঝরানো কষ্ট না হয়—বরং তা যেন হয় আত্মার ঘুম ভাঙানোর ঘণ্টা। দুপুরের রোদে যখন দম বন্ধ হয়ে আসে, তখন একবার ভেবে নিই—আমার আমল কী আমাকে সেই অনন্ত আগুন থেকে রক্ষা করতে পারবে?
আল্লাহ আমাদের সবাইকে জাহান্নামের আগুন থেকে হেফাজত করুন এবং রোদের তাপের মতো ছোট কষ্টগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে পরকালের প্রস্তুতি নেওয়ার তাওফিক দিন—আমীন।
Comments
Post a Comment