বিয়ের গল্প
** অতিরিক্ত চাওয়া-পাওয়া ও অপচয় থেকে বেঁচে থাকা
আজকাল সামাজিক চাপের কারণে অনেক স্ত্রী অযথা স্বামীর উপর চাপ সৃষ্টি করে।
বেশি দুনিয়ার মোহ, ব্র্যান্ড, সাজসজ্জা এসব নিয়ে ঝগড়া—পারিবারিক সম্পর্ক নষ্ট করে।
ইসলাম চায় সহজ ও সাদাসিধে জীবনযাপন।
একজন স্ত্রী আল্লাহর জন্য সন্তুষ্ট থাকলে দাম্পত্য জীবন সুখের হয়।
*** উপসংহার ও নসিহত
একজন বিবাহিত নারী যেন গুনাহ, অপসংস্কৃতি, পরনিন্দা, অপচয় ও দুনিয়ার মোহ থেকে বেঁচে থাকে।
তাহলেই সে দুনিয়া ও আখিরাতে সফল হবে।
আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে সে-ই উত্তম, যে তার স্ত্রীর প্রতি উত্তম।”
স্ত্রীর উচিত নিজেকে আল্লাহর একজন আমানতদার বান্দা মনে করে চলা।
** আসুন আমরা কিছু গল্প শুনি, এতে আমাদের অনেক ভালো লাগবে।
“তাকওয়ার ছায়ায় ভালোবাসা”শুরুটা সিজদার মতো পবিত্র
** রায়হান এক জন মাদ্রাসা শিক্ষক। মুখে সবসময় হালকা হাসি, চোখে নরম শীতলতা। তার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল, এমন একজন স্ত্রী পাওয়া যিনি হবে দুনিয়ার জান্নাতের মতো—যার সাথে নামাজে দাঁড়ানো যাবে, তাহাজ্জুদের সাথি হবে, আর যার চোখে তাকালেই আল্লাহর কথা মনে পড়ে।
অন্যদিকে হায়া—একজন নম্র স্বভাবের হিজাবি মেয়ে। আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হলেও, ইসলাম তার জীবনের প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে ছিল। হায়া দোয়া করতো, “হে আল্লাহ, আমাকে এমন একজন স্বামী দাও, যার ভালোবাসা আমাকে তোমার আরো কাছে নিয়ে যাবে।”দুইজনের দেখা হয় এক ইসলামী মাহফিলে। কোনো কথা হয়নি, শুধু চোখে চোখে বিনয়ী সম্মান আদান-প্রদান। এরপর পারিবারিকভাবে প্রস্তাব আসে। আল্লাহর নামেই শুরু হয় তাদের নতুন জীবন।
** ভালোবাসা যা ইবাদত হয়ে ওঠে
বিয়ের পরের রাত। রায়হান হালকা গলায় বলল, “আমি তোমাকে কখনো হাত দিয়ে ছোঁয়ার আগেই দোয়া করে ছুঁবো। তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা যেন আল্লাহর ভালোবাসার সেতু হয়।”
হায়ার চোখ ভিজে আসে। সে বলল, “আমি তোমার পাশে থেকে তোমার জান্নাতের পথে সহযাত্রী হতে চাই। আমি এমন স্ত্রী হতে চাই, যার জন্য ফেরেশতারা দোয়া করে।”
প্রতিদিন তারা একসাথে ফজরের নামাজ আদায় করত। একে অপরের জন্য দোয়া করত। কোনো দিন ঝগড়া হলে, রায়হান বলত, “আসো, একসাথে দু’রাকাত সালাত পড়ি, যেন শয়তান আমাদের মাঝে দেয়াল তুলতে না পারে।” হায়া কখনোই মুখ ফিরিয়ে নিত না।
** পরীক্ষার রাতগুলো
আল্লাহ ভালোবাসার মাঝে পরীক্ষা দেন। হঠাৎ হায়ার অসুস্থতা ধরা পড়ে। ডাক্তার বলল, সন্তান নেওয়া সম্ভব হবে না। চারপাশে কানাঘুষো, কিন্তু রায়হান হায়ার হাত শক্ত করে ধরে বলল, “সন্তান না থাকলেও কিছু যায় আসে না। তুমি আমার জান্নাতের সঙ্গী। আমি আল্লাহকে খুশি করতে চাই, এবং তুমি সেই পথে আমার সবচেয়ে বড় রহমত।”
হায়া অশ্রু দিয়ে জান্নাবাদ জানায়। তাদের ভালোবাসা আরও গভীর হয়, আরও পবিত্র হয়।
*** শেষ অধ্যায়, শুরু এক অনন্ত যাত্রার
বছরের পর বছর কেটে যায়। এক সকালে হায়া ঘুম থেকে উঠে না। মুখে ছোট্ট হাসি, হাতে তসবি। জান্নাতে চলে যায় সে, রায়হান তাকে সেজদায় বিদায় জানায়। জানাজার পর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে সে বলে, “হে আমার প্রিয়, আমি আসবো। কিন্তু জান্নাতে দেখা হবে, ইনশাআল্লাহ। সেখানেও একসাথে নামাজ পড়ব।”
রায়হান সেই দিনের অপেক্ষায় বেঁচে থাকে—প্রতিদিন তাহাজ্জুদে হায়ার জন্য দোয়া করে, কুরআনের খতম করে। কারণ তার ভালোবাসা ছিল দুনিয়াতেই জান্নাতের আয়না।
*** ** ভালবাসার আসমানি বন্ধন
** শুরুটা আল্লাহর নামে
সকালে ফজরের নামাজ শেষে আয়েশা জানালার পাশে বসে সূর্য ওঠার দৃশ্য দেখছিল। আজ তার বিয়ের দ্বিতীয় বছর পূর্ণ হলো। মনে পড়ছে, দুই বছর আগে এই দিনেই প্রথমবার ইমরানের পাশে বসেছিল, নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে। তখন ভয়ে বুক কাঁপছিল, কিন্তু আজ—আজ সে জানে, ইমরানই তার জন্য আল্লাহর শ্রেষ্ঠ উপহার।
২. আল্লাহর জন্য ভালবাসা
ইমরান সবসময় বলতো, “ভালবাসা তখনই টিকে থাকে যখন তার ভিত্তি হয় তাকওয়া।” আয়েশা প্রথমে বুঝতে পারেনি, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সে বুঝেছে—ইমরানের প্রতিটি কাজেই ছিল আল্লাহর ভয়, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা।
যখন আয়েশা অসুস্থ হতো, ইমরান অফিস থেকে তাড়াতাড়ি ফিরে আসতো। আয়েশার জন্য দোয়া করতো, ঝুঁকে গিয়ে বলতো, “আল্লাহ তোমার শেফা দিন।” আয়েশার চোখে জল আসতো। এমন যত্ন, এমন সম্মান—সে শুধু গল্পেই পড়েছিল।
৩. ছোট ছোট Sunnah ভালবাসা
ইমরান একদিন বলেছিল, “তুমি জানো? রাসূল (সা.) আয়েশা (রা.)-কে নাম ধরে ডাকতেন, তাকে খাওয়াতেন, হাসাতেন।” সেই থেকে ইমরান চেষ্টা করতো রাসূলের সুন্নাহ অনুসরণ করতে। আয়েশার মুখে খাবার তুলে দিত, বলতো, “তোমার হাসি আমার জান্নাতের আশা।” আয়েশা লাজুক হেসে বলতো, “আল্লাহ আমাদের সেই জান্নাতে একসাথে রাখুক।”
৪. বিরোধ, কিন্তু ভালোবাসার সাথে
মানুষ মাত্রই ভুল করে, আয়েশা আর ইমরানও তাই। কখনো ছোটখাটো ঝগড়া হতো। কিন্তু ইমরান কখনো রাগ নিয়ে ঘুমাত না। সে বলতো, “রাসূল বলেছেন, তোমার স্ত্রী তোমার আমানত। তাকে কষ্ট দিয়ে আমি কিভাবে আমার রবের সামনে দাঁড়াবো?”
একবার আয়েশা ভুল করে ইমরানের পছন্দের জামাটি ধুয়ে ফেলে রঙ উঠে গিয়েছিল। ইমরান কেবল হেসে বলেছিল, “এটা আমার সবচেয়ে প্রিয় জামা না, তুমি আমার সবচেয়ে প্রিয়।”
৫. ভালবাসার দোয়া
প্রতিদিন রাতে তাহাজ্জুদের সময় ইমরান উঠে নামাজ পড়তো। আয়েশা ঘুমিয়ে থাকলেও একদিন হঠাৎ জেগে দেখলো, ইমরান হাত তুলে দোয়া করছে, “হে আল্লাহ, আমার স্ত্রীকে আমার চোখের শান্তি বানাও, আমাদের মাঝে রহমত দাও, আমাদের সন্তানদের নেককার বানাও।”
সেই রাতেই আয়েশার চোখে পানি এসেছিল। সে বুঝেছিল, স্বামী-স্ত্রীর মাঝে প্রকৃত ভালোবাসা মানে একে অপরের জন্য আল্লাহর কাছে চাইবার ক্ষমতা রাখা।
৬. জীবনের কঠিন সময়েও একসাথে
একসময় ইমরানের চাকরি চলে যায়। টানাপোড়েন শুরু হয়। কিন্তু আয়েশা কখনো অভিযোগ করেনি। বরং বলতো, “রিজিক তো আল্লাহর হাতে। তুমি আমার সাথে থাকলেই যথেষ্ট।” ইমরান তখন আয়েশার হাত ধরে বলেছিল, “তোমার এই ইমানই আমার সবচেয়ে বড় সহায়।”
৭. জান্নাতের পথে সাথী
শুক্রবারে তারা একসাথে কুরআন তেলাওয়াত করতো। আয়েশা কুরআনের বাংলা অর্থ পড়ে শোনাতো, ইমরান ব্যাখ্যা করতো। তারা বলতো, “এই জীবন ক্ষণিক, আমাদের লক্ষ্য জান্নাত। সেখানেও যেন আমরা একসাথে থাকি।”
৮. শেষ কথায় ভালোবাসা
এক রাতে আয়েশা খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ইমরান তার পাশে বসে সারা রাত কুরআন তেলাওয়াত করে। আয়েশা হালকা হেসে বলে, “যদি আমি চলে যাই, জান্নাতে আমাকে খুঁজে নিও।” ইমরানের চোখে জল এসে যায়। সে বলে, “না, তুমি আমার আগে যেও না। আল্লাহ আমাদের একসাথেই ডাকুক।”
৯. শেষ দৃশ্য
আলহামদুলিল্লাহ, আয়েশা সুস্থ হয়ে ওঠে। আবার সেই সকাল, জানালার পাশে সূর্য। কিন্তু এবার সে একা না। ইমরান পাশে বসে। হাতে কফি, চোখে শান্তি। তারা দু’জন একে অপরকে দেখে। কোন শব্দ নেই, তবু বোঝা যায়—এই ভালোবাসা আসমান থেকে এসেছে। এই ভালোবাসা শুধু দুনিয়ার না, আখিরাতের জন্যও।
শেষ কথা:
একজন প্রকৃত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যখন আল্লাহর ভয়, রাসূলের সুন্নাহ, ও একে অপরের প্রতি সম্মান থাকে, তখন সেই সম্পর্ক হয়ে ওঠে জান্নাতের সিঁড়ি।
জীবনের জান্নাত”
অধ্যায় ১: প্রথম দেখা
রহমান সাহেব নামাজ শেষ করে মসজিদ থেকে বের হচ্ছেন, হালকা বিকেলের রোদে তার মুখে প্রশান্তি ঝলমল করছে। এক পাশ থেকে দেখা গেল, একটি বোরখা পরা তরুণী মসজিদের মহিলা নামাজ ঘর থেকে বের হয়ে তার বাবা’র সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছে। রহমান সাহেবের চোখে পড়লো মেয়েটির শান্ত ও মার্জিত আচরণ। মেয়েটি তার বাবার হাত ধরে এমনভাবে হেঁটে যাচ্ছিল যেন জান্নাতের কোনো হুর তার পিতার প্রতি আদব দেখাচ্ছে।মেয়েটির নাম – মারিয়া। মারিয়া ছিল একজন হিফজ সম্পন্ন মেয়ে, কুরআনের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল অকৃত্রিম। তার স্বপ্ন ছিল এমন একজন স্বামী যে তার কুরআনের সঙ্গী হবে।
রহমানের মন কেমন যেন দুলে উঠল। তিনি ছিলেন একজন ইসলামিক স্কলার, স্থানীয় মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। তার পরিবার চাইছিল এবার বিয়ে করুক।
পরদিন ভোরে তাহাজ্জুদের নামাজে দাঁড়িয়ে রহমান হাত তুললেন আল্লাহর দরবারে:
“হে আল্লাহ, আমাকে একজন দ্বীনদার জীবনসঙ্গিনী দান করুন, যে জান্নাতের পথে আমার হাত ধরে রাখবে।”
অধ্যায় ২: বিয়ের প্রস্তাব
এক সপ্তাহ পরে রহমানের মা মারিয়ার পরিবারে প্রস্তাব পাঠালেন। প্রথমেই মারিয়ার বাবা বললেন, "আমরা শুধু তাকওয়া দেখি, ধন-সম্পদ নয়। ছেলে দ্বীনদার শুনেছি, তাহলে দেখা করা যাক।"
মারিয়া কিছুটা লাজুকভাবে মাকে বলল, “আমি চাই এমন একজন, যে আমাকে নবীজির সুন্নাহ মতো ভালোবাসবে।”
তার মা বললেন, “তুমি দোয়া করো, যদি আল্লাহ চান, তিনিই তোমার জন্য কল্যাণ রাখবেন।”
আলহামদুলিল্লাহ, দুই পরিবার মিলে দেখাশোনার পর দুজনের ইস্তিখারা করা হলো। এবং আল্লাহর রহমতে দুজনের মনে প্রশান্তি এল।
বিয়ে সম্পন্ন হলো খুব সরলভাবে, কোনো বড় আয়োজন নয়—কেবল কুরআন তেলাওয়াত, দুয়া এবং সুন্নাহ মোতাবেক কিছু মিষ্টি বিতরণ।
অধ্যায় ৩: ভালোবাসার শুরু
বিয়ের পর প্রথম রাত। রহমান মারিয়ার দিকে তাকিয়ে বললেন,
“তুমি জানো, আমি তোমাকে ভালোবাসি শুধু এই জীবনের জন্য নয়, জান্নাতেও একসাথে থাকার জন্য।”
মারিয়া লজ্জায় চোখ নামিয়ে বলল, “আমি তো দোয়া করতাম, এমন একজন সাথী হোক, যে তাহাজ্জুদের সাথী হবে।”
প্রথম রাতে তারা একে অপরের জন্য দুয়া করেছিল:
“হে আল্লাহ, আমাদের দুজনের মাঝে ভালোবাসা ও রহমত দান করুন, যেন আমরা একে অপরের জান্নাতের দরজা হতে পারি।”
অধ্যায় ৪: একসাথে দ্বীনের পথে
বিয়ের পর দিনগুলো কাটছিল অনেকটা জান্নাতের মতই। মারিয়া ঘরে কুরআনের তিলাওয়াত করতো, রহমান মাদ্রাসায় পড়াতেন। রাতে একসাথে বসে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনী পড়তেন।
তারা একটি নিয়ম বানিয়েছিল—প্রতিদিন অন্তত একটি করে হাদীস পড়বে এবং নিজেদের জীবনে প্রয়োগ করার চেষ্টা করবে।
এক রাতে রহমান মারিয়াকে বলল, “চলো আজ আমরা সেই হাদীসটা শিখি, যেখানে রাসূল (সা.) বলেছেন: ‘তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।’ আমি চাই, আমি যেন তোমার কাছে সর্বদা উত্তম থাকি।”
মারিয়া বলল, “আর আমি চাই, আমি যেন সেই নারী হই, যে তার স্বামীর অনুগত থেকে জান্নাত লাভ করে।”
Comments
Post a Comment