স্মৃতির আবেগে আমার নানা

 

স্মৃতির আবেগে আমার নানা

মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি 
 

আমার নানা, সম্মানিত জনাব হামিদুল ইসলাম, ছিলেন সত্যিকার অর্থেই এক নেককার ও প্রিয়ভাজন মানুষ। তাঁর ইন্তেকালের সংবাদ আমার হৃদয়কে শূন্য করে দিয়েছে। তিনি শুধু একজন দাদা ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন আমার জীবনের এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। তাঁর ছোট ছেলে ইমরান আমার প্রিয় বন্ধু, যার সঙ্গে আমার সম্পর্ক শুধুমাত্র বন্ধুত্বেই সীমাবদ্ধ নয়; তাকে আমি কুরআন শিক্ষা দিয়েছি কায়দা থেকে শুরু করে আমপারা পর্যন্ত।

নানা ছিলেন এবাদতগুজার মানুষ। মসজিদে আজান হলেই তিনি সঙ্গে সঙ্গে রওনা হতেন, জামাতের সঙ্গে নামাজ পড়া তাঁর নিত্যনিয়ম ছিল। জিকিরে ডুবে থাকা, কুরআন তেলাওয়াত শোনা ও শেখার আগ্রহ ছিল তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশেষ করে রমজান মাসে তিনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ৩০ পারা কুরআন শুনতেন, আর এতেকাফে অংশগ্রহণ করতেন যেন আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করতে পারেন।

আমার সবচেয়ে বড় আফসোস, যখন আমি তারাবি পড়াতাম তখন নানা আমার পাশে থাকতেন। তাঁর উপস্থিতি আমার ইবাদতের অনুপ্রেরণা বাড়িয়ে দিত। আজ ভাবতে কষ্ট হয়—আসন্ন রমজানে তিনি আর আমার পাশে থাকবেন না, তাঁর স্নেহমাখা প্রশ্ন আর থাকবে না, তাঁর দোয়া আর পাবো না। এই অভাব আমার অন্তরে গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে।

নানা ছিলেন পরিবার ও সমাজের কাছে প্রিয়ভাজন। তাঁর আন্তরিকতা, সরলতা ও ধর্মপ্রেম সবাইকে মুগ্ধ করেছিল। তিনি আমাদের জন্য এক শিক্ষার উৎস ছিলেন। ইসলামের প্রতি তাঁর ভালোবাসা আমাদের শিখিয়ে দিয়েছে—জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য ইবাদত ও আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ায়।

আজ আমি ভীষণ কষ্টে আছি, তবে সান্ত্বনা পাই এ ভেবে যে, আল্লাহর কাছে তাঁর প্রতিটি সৎকর্ম জমা রয়েছে। আমি প্রতিশ্রুতি করছি, নানার রূহের মাগফিরাতের জন্য আমি কুরআন খতম করব, নামাজের পর নিয়মিত দোয়া করব এবং নেক আমল পাঠাবো। তাঁর জন্য আমাদের সবারই উচিত বেশি বেশি ইস্তিগফার ও সাদকা করা।

আল্লাহ তাআলা আমার নানার কবরকে জান্নাতের বাগিচা বানিয়ে দিন, তাঁর সমস্ত গুনাহ মাফ করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন। আমীন।

Comments

Popular posts from this blog

“দ্বীনের দীপ্তি: ইসলামের মূল শিক্ষা”

স্মৃতির প্রাঙ্গণ ও মাধুর্যের ঋণ

📘 প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি