তালিবে ইলমের ইমতিহান: একটি উপলব্ধির ডাক

তালিবে ইলমের ইমতিহান: একটি উপলব্ধির ডাক

মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি 

প্রিয় ভাই, তুমি একজন তালিবে ইলম। তোমার কাঁধে যেমন দীনের বোঝা, তেমনি রয়েছে ইলমের পরীক্ষা নামক কঠিন এক দায়িত্ব। পরীক্ষা মানেই শুধু খাতা-কলম নয়; এটা একটা উপলব্ধির সময়, একটা আত্মবিশ্লেষণের মুহূর্ত। আমি তোমাকে ভালোবাসি আল্লাহর জন্য, তাই হৃদয়ের গহীন থেকে কিছু কথা বলতে চাই।
এই প্রবন্ধটি আমি সাজিয়েছি রাশেদ নামের এক ব্যক্তি তার খালেদ বন্ধুকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নসিহত করেছে সেই হিসেবে তুমি এর স্থলে তুই  ব্যবহার করা হলো।
আমরা যখন কোনো ময়দানে নামি, সেটা খেলাধুলা হোক কিংবা যুদ্ধক্ষেত্র, প্রত্যেকটা পদক্ষেপ হিসেব করে ফেলি। তাহলে ইলমের ময়দানে—যেখানে আমাদের ভবিষ্যত, দ্বীন, সমাজ, উম্মাহর দায়িত্ব জড়িত—সেখানে কি আমরা অবহেলা করতে পারি?
পরীক্ষার দিনগুলো হঠাৎ চলে আসে না। এগুলোর আগমন হয় ধীরেধীরে, কিন্তু সেগুলো চলে যায় তীব্র গতিতে। যারা আগেভাগে প্রস্তুত হয়, তারাই হয় বিজয়ী। আর যারা প্রস্তুতির সময় অলসতায় কাটায়, পরীক্ষার হলে গিয়ে আফসোস করে: “ইশ! আরেকটু আগে মেহনত করলে ভালো হতো!”
ভাই, মনে রাখিস—ইলম চাওয়া এক যুহুদ, এক জিহাদ, এক ইবাদত। আর এর পরীক্ষা সেই ইবাদতের একটি অংশ। এটা রুটিনের অংশ না, এটা তো আমাদের জীবনের অংশ। তুই যদি এখন থেকে পরীক্ষা মানেই একটা সওয়াবের কাজ মনে করিস, তাহলে পড়াশোনা করাটাও ইবাদত হয়ে যাবে। ঘন্টার পর ঘন্টা পড়ে থাকবি—মনেও হবে না যে ক্লান্ত হচ্ছিস।
অনেকে পরীক্ষা এলে হঠাৎ করে রুটিন বানায়। কিন্তু আমি তোকে বলি, যদি প্রতিদিন পড়ার অভ্যাস করিস, তাহলে পরীক্ষার আগের দিনগুলো হবে শুধু রিভিশনের। রাত জেগে হুটহাট মুখস্থ করাটা কষ্টকরও বটে, ফলও তেমন আসে না। আর প্রতিদিন ২-৩ ঘণ্টা করে পড়লে পরীক্ষার আগের রাতে তুই নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবি।
ভাই, আমি জানি, তুই মেধাবী। কিন্তু শুধু মেধা দিয়ে নয়, মেহনত দিয়েই সফলতা আসে। আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীনের কুদরত দেখ—তিনি বলছেন:
“وَأَنْ لَيْسَ لِلْإِنْسَانِ إِلَّا مَا سَعَىٰ”
—সূরা আন-নাজম: ৩৯
অর্থাৎ, "মানুষ যা চেষ্টা করে, তাই সে পায়।" ভাই, এই আয়াতটা তোর পড়ার টেবিলে লিখে রাখ। যখনই মন বসবে না, এই আয়াতের দিকে তাকাবি, শক্তি পাবি।
পরীক্ষা নিয়ে চিন্তিত হওয়া দোষের না, বরং এটা একটা ভালো আলামত। মানে তুই গুরুত্ব দিচ্ছিস। তবে হতাশ হওয়া ভুল। পরীক্ষায় খারাপ হলে জীবন শেষ না। বরং একটা সুযোগ—যেখান থেকে উঠে দাঁড়ানো যায়। আবার পরীক্ষায় ভালো করলেই জীবনের সব সমস্যা মিটে যাবে, এমনও না। কিন্তু এটা একটা ধাপ, যেটা তোর লক্ষ্য অর্জনে দরকারি।
ভাই, খেয়াল রাখিস—পরীক্ষার সময় যেন তোর ইবাদত বাদ না পড়ে। নামায, যিকির, কুরআন তেলাওয়াত—সব ঠিকঠাক চালিয়ে যাস। বরং বেশি পড়ার ফাঁকে ফাঁকে রুকু-সিজদাহ কর, দু'আ কর—এতে পড়াও বেশি মনে থাকবে। এক সাহাবি বলেছিলেন, “আমরা ইলম চাইতাম নামাযের মাঝে।” তোরা চাইলে পারবি না?
আরেকটা জিনিস বলি—দু'আ কর। আল্লাহর কাছে বল, “হে আল্লাহ! আমাকে পরীক্ষার ময়দানে সৎ, আত্মবিশ্বাসী, সচেতন ও সফল বানিয়ে দাও।” বিশ্বাস কর, এই দু'আর মর্যাদা শুধু পাশ হওয়ার নয়, বরং তোর চিন্তা-চেতনা পর্যন্ত বদলে দেবে।
আজকাল অনেকে পরীক্ষার সময় মোবাইলে গেম খেলে, অন্যদের সাথে আড্ডা দেয়, TikTok দেখে সময় নষ্ট করে। ভাই, এটা তোর সময় না। একদিন এই সময়টা খুব মূল্যবান মনে হবে। তখন আফসোস করেও কিছু করতে পারবি না। তাই এখনই সময়: হেফাজত কর তোর প্রতিটি মুহূর্ত, যেন কাল কারো সামনে গর্ব করে বলতে পারিস—"আমি চেষ্টা করেছিলাম!"
ভাই, মনে রাখিস—পরীক্ষা মানে একটা লড়াই, যেখানে অস্ত্র হলো তোর কলম, ঢাল হলো তোর ইলম, আর বিজয় হলো সৎ নিয়তে মেহনতের ফলাফল।

মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা
দ্বীনের দীপ্তি

Comments

Popular posts from this blog

“দ্বীনের দীপ্তি: ইসলামের মূল শিক্ষা”

স্মৃতির প্রাঙ্গণ ও মাধুর্যের ঋণ

📘 প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি