১০ই মুহাররম: রোযার দিনের আমল, চলাফেরা ও সাহাবায়ে কেরামের আদর্শ

 ১০ই মুহাররম: রোযার দিনের আমল, চলাফেরা ও সাহাবায়ে কেরামের আদর্শ

মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি 

আলহামদুলিল্লাহ, আজ ১০ই মুহাররম – আশুরার দিন। যারা রোযা রেখেছেন, তাদের জন্য এ দিনটি অতিমাত্রায় বরকতময় ও ফজিলতপূর্ণ। এ দিনটি কীভাবে কাটাবেন, কোন আমল করবেন, রাসূল ﷺ ও সাহাবায়ে কেরাম কী করতেন—এই সবকিছুর আলোকে নিচে একটি বাস্তবসম্মত দিনের পরিকল্পনা ও আমল তালিকা দেওয়া হলো।

হাদীস: রাসূল ﷺ বলেন—
“আমি আশা করি আল্লাহ তাআলা আশুরার রোযার দ্বারা অতীত এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন।”
— (সহীহ মুসলিম: ১১৬২)

 সকাল: ফজরের পরের সময়

  • ফজরের সালাত জামাতের সাথে আদায় করা।
  • তিলাওয়াত শুরু করা – অন্তত ১ পারা বা ২০-৩০ মিনিট।
  • আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা যে এই বরকতময় দিনে রোযা রাখার তাওফিক দিয়েছেন।
  • উম্মতের মাগফিরাত, গাজওয়াতুল হিন্দ ও আল-আকসার মুক্তির জন্য বিশেষ দোয়া।

 সকাল থেকে দুপুর (৯টা–১২টা)

  • ইতিহাস ও আশুরা সংক্রান্ত প্রামাণ্য বই পড়া (যেমন: البدایة والنهایة বা سير أعلام النبلاء)।
  • নিজেকে আত্মসমালোচনায় ব্যস্ত রাখা – বিগত জীবনের ভুল ও ভবিষ্যতের করণীয় নিয়ে ভাবা।
  • দুঃখপ্রকাশ নয়, বরং হক ও সত্যের পথে চলার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করা।
  • পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ধর্মীয় আলোচনা করা – ইমাম হুসাইন (রাঃ)-এর আত্মত্যাগ সম্পর্কে।
  • যোহরের সময়
  • জামাতে যোহরের সালাত আদায়।
  • সালাতের পর সূরা কাফ, সূরা দোখান ইত্যাদি থেকে তিলাওয়াত করা।
  • সালাতের পর তাসবীহ পড়া: سبحان الله، الحمد لله، الله أكبر، لا إله إلا الله

দুপুর থেকে বিকেল (২টা–৫টা)

  • আত্মীয়-স্বজন, গরিব-মিসকীনদের জন্য সদকা দেওয়া (যেহেতু রাসূল ﷺ বলেছেন পরিবারে খরচ বাড়ালে বরকত হয়)।
  • ঘুম বা বিশ্রামের পূর্বে আশুরা সংক্রান্ত কিছু হাদীস বা ঘটনা স্মরণ করা।
  • বিদআত ও ভ্রান্ত রেওয়াজ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি – নিজে ও অন্যকে সাবধান করা।

মাগরিব ও ইফতার

  • সুন্নত অনুযায়ী খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার করা।
  • ইফতারের সময় দোয়া:
    اللهم لك صمت، وعلى رزقك أفطرت، ذهب الظمأ وابتلت العروق وثبت الأجر إن شاء الله
  • ইফতারের পর নফল সালাত ও দোয়া করা।

 এশার পর (রাতের আমল)

  • ইশার সালাত জামাতে আদায়।
  • নফল ইবাদত: তাহাজ্জুদের নিয়তে ২ রাকাত ইবাদত করা।
  • আশুরা সম্পর্কে রেফারেন্স সহ পড়াশোনা ও নোট তৈরি করা।
  • সিরাতে রাসূল ﷺ বা কারবালার সঠিক ইতিহাস নিয়ে বই পড়া।

 রাসূল ﷺ ও সাহাবাদের আদর্শ

  • রাসূল ﷺ আশুরায় ১০ তারিখ রোযা রাখতেন এবং সাহাবাদেরও আদেশ দিতেন। (বুখারী: ২০০৪)
  • তিনি বলেন, “আগামী বছর বেঁচে থাকলে ৯ তারিখও রোযা রাখবো।” — (সহীহ মুসলিম)
  • সাহাবায়ে কেরাম এই দিনটিকে গাম বা শোকের দিন নয় বরং ইবাদত ও ধৈর্যের দিন হিসেবে পালন করতেন।
  • কোনো শোকাবহ মিছিল, মাতম, রক্তপাত—এগুলোর কোনো অস্তিত্ব সাহাবাদের যুগে ছিল না।
শেষ কথা 
এই মহা বরকতময় দিনে আমাদের উচিত তাকওয়া অর্জন, বিদআত থেকে দূরে থাকা এবং আত্মশুদ্ধির দিকে এগিয়ে যাওয়া। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে, আবেগে না ভেসে হকের উপর অবিচল থাকতে হবে। আল্লাহ যেন আমাদের আশুরার রোযা কবুল করেন এবং আমাদের গুনাহ মাফ করে দেন—আমীন।

✍️ লিখেছেন: মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা

Comments

Popular posts from this blog

“দ্বীনের দীপ্তি: ইসলামের মূল শিক্ষা”

স্মৃতির প্রাঙ্গণ ও মাধুর্যের ঋণ

📘 প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি