গল্প ১: আল্লাহর বাণী ও বানরার ছেলেটি

 

গল্প ১: আল্লাহর বাণী ও বানরার ছেলেটি

 পরিভাষা: القرآن مصدر الأحكام

এক গ্রামে এক বানরার ছেলে ছিল, নাম তার সালমান। লেখাপড়ায় দুর্বল, কিন্তু জিজ্ঞাসু স্বভাবের ছিলো তীব্র। একদিন হুজুর তাকে বললেন:

“সালমান, আল্লাহর কিতাবই হল আমাদের ইলমের মূল আলো। কুরআন থেকেই আমরা জানি কী হালাল, কী হারাম, কী ফরজ, কী নফল।”

সালমান অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, “হুজুর, সব কিছু কি কুরআনে আছে?” হুজুর তখন হাসলেন। তারপর বললেন—

“না সালমান, কুরআন আমাদের مصدر الأحكام — অর্থাৎ শরীয়তের মূল উৎস। সব হুকুম কুরআনে শব্দে-শব্দে নেই, কিন্তু কুরআনের আলো ছড়িয়ে আছে সমস্ত ফিকহে।”

 মূল আলোচনা:

كِتَابُ اللهِ হলো ফিকহি দলিলসমূহের সর্বপ্রথম ও সর্বোচ্চ উৎস।

 এর মাধ্যমে আমরা الأحكام الشرعية (ফরজ, হারাম, মাকরূহ, মুস্তাহাব, মুবার) নির্ধারণ করি।

কুরআনের দলিল দুই প্রকার:

১. نص قطعي الثبوت والدلالة – যেমন ওজু, রোযা, নামাযের ফরজ নির্দেশ।

২. نص ظني – যেমন কিছু আয়াতের ব্যাখ্যা নিয়ে ইজতিহাদ হয়।

 কুরআনের ভাষা কখনো عام, কখনো خاص, কখনো مطلق, কখনো مقيد

 দলিল ও ব্যাখ্যা:

فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ – النساء: ٥٩

অর্থ: “তোমরা যদি কোনো বিষয়ে মতবিরোধে পড়ো, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও।”

وَمَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ مِن شَيْءٍ فَحُكْمُهُ إِلَى اللَّهِ – الشورى: ١٠

অর্থ: “তোমরা যে কোনো বিষয়ে মতবিরোধে পড়ো, তার চূড়ান্ত ফয়সালা আল্লাহর কাছ থেকেই।”

 শিক্ষণীয় বিষয়:

কুরআনের দলিল ফিকহের প্রধান ভিত্তি।

 যে দলিল قطعي, তা ইজতিহাদের ঊর্ধ্বে।

 যে দলিল ظني, সেখানে মতভেদ হতে পারে।

কুরআনের ভাষাগত বৈচিত্র্য বুঝলে উসূল সহজ হয়।


✍️ লেখক: মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা

Comments

Popular posts from this blog

“দ্বীনের দীপ্তি: ইসলামের মূল শিক্ষা”

স্মৃতির প্রাঙ্গণ ও মাধুর্যের ঋণ

📘 প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি