উসুলুল ফিকহ: এক মনোজ্ঞ মুতালাআর গল্প
উসুলুল ফিকহ: এক মনোজ্ঞ মুতালাআর গল্প
লিখেছেন: মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা
শুরুর অনুভূতি
উসুলুল ফিকহ—প্রথমে যখন এই বিষয়টির নাম শুনেছিলাম, মনে হয়েছিল বুঝি খুব কঠিন হবে। কিন্তু যখন একদিন হেদায়ার একটি মাসআলা বুঝতে গিয়ে আটকে গেলাম, তখন উস্তাদ বললেন: “এইটা উসুলুল ফিকহ না পড়লে ধরতে পারবা না।” তখন থেকে আগ্রহ জন্মায়।
একদিন দরসের আগে নিজেই ‘উসুলুশ শাশী’ খুলে পড়া শুরু করি। প্রথম পৃষ্ঠা থেকেই হৃদয়ে এক ধরনের তৃপ্তি আসতে লাগল। মনে হচ্ছিল, এই ফন যেন আমার ভেতরের চিন্তাগুলোর কথাই বলছে।
পড়ার মজা ও আবিষ্কার
যখন দরস চলাকালীন সময়ে “الامر للوجوب” (আদেশ ওয়াজিবের জন্য) এবং “النهي للتحريم” (নিষেধ হারামের জন্য) শিখলাম, তখন মনে হল—ফিকহের জগত এক নতুন আলোয় উদ্ভাসিত হলো। তারপর “عام, خاص, مطلق, مقيد”—এই নিয়মগুলো শিখে যখন কুরআন-হাদীসের বিভিন্ন আয়াত ও হাদীসের অর্থ বিশ্লেষণ করতে লাগলাম, তখন নিজেকে মনে হলো একজন খোঁজার নায়ক!
وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ – এই আয়াত আদেশ বুঝায়। কিন্তু উসুলুল ফিকহ আমাকে শিখালো যে আদেশ কখন ওয়াজিব, কখন মুস্তাহাব হতে পারে—তা প্রসঙ্গ ও কুদামার ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করে।
আমি কী কী বের করেছি?
- ফিকহি ইখতিলাফ কেন হয়, তার পেছনের উসুল বুঝে গেছি।
- কোনো মাসআলা কুরআন-হাদীস থেকে বের করতে গেলে কোন পথ ধরতে হয়—এই রোডম্যাপ এখন আমার কাছে পরিষ্কার।
- তাকরীব, মাকাসিদ, মুতালিব, ইসতিসহাব—এসব কাঠামো এখন আমার চিন্তার অংশ।
এই ফন দিয়ে কী কী ব্যবহার ও সমাধান করতে পেরেছি?
ফিকহের অনেক মাসআলা আগে শুধু মুখস্থ করতাম, কিন্তু এখন বুঝে বুঝে পড়ি। কোথাও প্রশ্ন করা হলে শুধু উত্তরই নয়, দলিলসহ ব্যাখ্যা দিতে পারি। উসুলুল ফিকহ আমাকে মাসআলা বোঝার রসদ দিয়েছে। অনেক বিতর্ক বা বিভ্রান্তির উত্তর এই ফন থেকে দিতে পেরেছি।
সবচেয়ে মজার দিক
যখন নিজে নিজে কোনো কুরআনের আয়াত ধরে তার ওপর “আম ও খাস” বা “হাকিকি ও মজাজ” বিশ্লেষণ করতে পারি, তখন মনে হয় আমি সত্যিই ফিকহের পথযাত্রী। অনেকটা যেন রহস্যভেদের আনন্দ!
হাদীসে এসেছে – “مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي” – এখানে ‘ما’ কী জিনিস? উসুল আমাকে দেখালো, এটা ‘موصول’ যা ‘عام’ এর কাজ করছে। কিন্তু প্রসঙ্গ অনুযায়ী তা ‘خاص’ হতে পারে!
উপসংহার
উসুলুল ফিকহ আমার কাছে শুধু একটা বিষয় না, এটা একটা মানসিক ল্যাবরেটরি। এখান থেকে আমি চিন্তা করতে শিখেছি, প্রশ্ন তুলতে শিখেছি, এবং প্রয়োগ করে ফলাফল পেতে শিখেছি।
এই অভিজ্ঞতা আমাকে শুধু একজন পাঠক বানায়নি, বরং একজন চিন্তাশীল তালিবে ইলম বানিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, উসুলুল ফিকহ না শিখলে ইলমে শরীয়তের দরজা পুরোপুরি খোলা হয় না।
মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা, দ্বীনের দীপ্তি
২৩-৪-২২ রাত ১১:৪৫
Comments
Post a Comment