2
مقدمة تمهيدية: উসূলুল ফিকহের গুরুত্ব ও ভিত্তি
আমরা শুরুতে এই বিষয়ে কিছু আলোচনা করতে চাই।যাতে পরবর্তীতে কিতাব টি বুঝতে সহজ হয়।
১. উসূলুল ফিকহ কী
উসূলুল ফিকহ হলো এমন একটি ইলম যা ফিকহী হুকুম আহরণের মূলনীতি ও দলীল নির্ধারণের পদ্ধতি শেখায়। অর্থাৎ কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াস এবং অন্যান্য শরঈ দলীল থেকে কিভাবে শরঈ হুকুম বের করতে হয় তার নিয়মতান্ত্রিক শিক্ষা হলো উসূলুল ফিকহ।
«العلم بالقواعد التي يتوصل بها إلى استنباط الأحكام الشرعية من أدلتها التفصيلية.» — التوضيح والتلويح، ج ١، ص ٥
অর্থাৎ: এমন নীতির জ্ঞান যার মাধ্যমে বিস্তারিত দলীল থেকে শরঈ হুকুম আহরণ করা হয়।
২. উসূলুল ফিকহে সাধারণত কী কী আলোচনা হয়
উসূলুল ফিকহে চারটি মূল বিষয় আলোচিত হয়:
- ١. الأدلة الشرعية: কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াস, ইস্তিহসান, ইস্তিসহাব ইত্যাদি দলীলের প্রমাণিকতা ও প্রয়োগ।
- ٢. الأحكام الشرعية: ফরয, ওয়াজিব, হারাম, মাকরূহ, মুস্তাহাব ইত্যাদি হুকুমের সংজ্ঞা ও কার্যকারিতা।
- ٣. القواعد الأصولية: আদেশ (الأمر), নিষেধ (النهي), আম-খাস (العام والخاص), মুতলাক-মুকায়্যাদ (المطلق والمقيد) ইত্যাদি।
- ٤. الاجتهاد والفتوى: মুজতাহিদের যোগ্যতা, ইজতিহাদের পদ্ধতি এবং ফতোয়া প্রদানের নীতি।
৩. ফিকহ ও উসূলুল ফিকহের পার্থক্য
ফিকহ ও উসূলুল ফিকহ আলাদা দুটি ইলম, তবে একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত। তাদের পার্থক্য হলো:
| বিষয় | ফিকহ | উসূলুল ফিকহ |
|---|---|---|
| সংজ্ঞা | শরঈ মাসাইলের বিস্তারিত জ্ঞান | শরঈ মাসাইল আহরণের নীতি ও পদ্ধতি |
| উদ্দেশ্য | আমল ও ফতোয়ার জন্য হুকুম নির্ধারণ | হুকুম আহরণের মূলনীতি নির্ধারণ |
| উদাহরণ | যেমন সালাত ফরয, যাকাত ফরয | যেমন "الأمر للوجوب" নীতি |
৪. ফিকহ ও উসূলুল ফিকহের সম্পর্ক
উসূলুল ফিকহ হলো ফিকহের ভিত্তি। যেমন স্থাপত্যের ভিত্তি ছাড়া ভবন টেকে না, তেমনি উসূলুল ফিকহ ছাড়া ফিকহের গভীরতা বোঝা যায় না। ফিকহ হলো ফল, আর উসূল হলো সেই ফল ফলানোর গাছের শিকড়।
«الأصول أصل والفقه فرع، ولا يقوم الفرع إلا على الأصل.» — شرح التنقيح، ص ٣
৫. বাস্তব জীবনে প্রয়োগ
উসূলুল ফিকহ কেবল তাত্ত্বিক ইলম নয়। বাস্তব জীবনে ফিকহী মাসাইল সমাধান, নতুন মাসাইলের ইজতিহাদ, এবং শরীয়তের গভীরতা বুঝতে এটি অপরিহার্য।
- নতুন প্রযুক্তিগত মাসাইল যেমন ডিজিটাল মুদ্রা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্যাংকিং সিস্টেম ইত্যাদিতে ইজতিহাদ।
- ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে দলীলের শক্তি যাচাই।
- মাযহাবভিত্তিক ইখতেলাফের কারণ বোঝা।
- কুরআন ও হাদীসের نصوص সঠিকভাবে প্রয়োগ করা।
৬. أصول الشاشي পড়লে ফায়দা
أصول الشاشي মাদরাসা দরসী نظامের প্রাথমিক কিতাব হিসেবে ছাত্রদের জন্য নিম্নলিখিত ফায়দা প্রদান করে:
- উসূলুল ফিকহের মূল নীতি আয়ত্ত করা।
- ফিকহী মাসাইলের পিছনের যুক্তি বোঝা।
- উন্নত কিতাব যেমন أصول البزدوي বা كشف الأسرار পড়ার জন্য প্রস্তুত হওয়া।
- দলীল বিশ্লেষণ ও গবেষণার ক্ষমতা অর্জন।
৭. "أصول" শব্দের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ
"أصول" শব্দটি আরবীতে أصل এর বহুবচন, যার আভিধানিক অর্থ "ভিত্তি" বা "শিকড়"।
«الأصل ما يُبنى عليه غيره.» — القاموس المحيط
পারিভাষিক অর্থে أصول বলতে বোঝানো হয় ফিকহ আহরণের নীতি, যেমন—
«الأصول هي القواعد التي يُستنبط منها الفقه.» — شرح التنقيح
অর্থাৎ أصول হলো সেই ভিত্তি যেখান থেকে ফিকহী হুকুমের শাখা-প্রশাখা বের হয়।
মোটকথা,,,,,
উপরোক্ত আলোচনার আলোকে আমরা বলতে পারি: উসূলুল ফিকহ হলো ফিকহের প্রাণ, আর أصول الشاشي হলো সেই ইলমের প্রবেশদ্বার। এই কিতাব অধ্যয়ন করলে ছাত্ররা দলীলভিত্তিক ফিকহ চর্চা করতে সক্ষম হয় এবং মুজতাহিদদের ইলমী পথ অনুসরণের যোগ্যতা অর্জন করে।
*** বিসমিল্লাহ: এটা কি মুসান্নিফ নিজে যুক্ত করেছেন নাকি মাকতাবার সংযোজন?
প্রিয় ছাত্ররা! আজ আমরা একটি সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। أصول الشاشي কিতাবের শুরুতে যে بسم الله الرحمن الرحيم লেখা আছে, এটি কি মুসান্নিফ শায়খ شمس الأئمة الشاشي (رحمه الله) নিজে লিখেছেন নাকি পরে নকলকারীরা (النسّاخ) বা মাকতাবার সম্পাদকগণ সংযোজন করেছেন?
এই প্রশ্নটি শুধু أصول الشاشي নয়, বরং প্রায় সব কিতাবের ক্ষেত্রেই আলোচিত হয়েছে। আমরা নিম্নোক্ত শিরোনামের অধীনে বিস্তারিত আলোচনা করব:
- কিতাবের শুরুতে বাসমালাহ রাখার সাধারণ প্রথা
- মুসান্নিফের ব্যক্তিগত বাসমালাহ ও নকলকারীদের সংযোজনের পার্থক্য
- উলামায়ে কেরামের বক্তব্য
- أصول الشاشي সম্পর্কিত নির্দিষ্ট তাহকীক
- রাজেহ মত
১. কিতাবের শুরুতে বাসমালাহ রাখার সাধারণ প্রথা
প্রিয় ছাত্ররা! ইসলামী কিতাবসমূহে বাসমালাহ দিয়ে শুরু করার রীতি নববী যুগ থেকেই চলে আসছে।
﴿إِنَّهُ مِن سُلَيْمَانَ وَإِنَّهُ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ﴾ — النمل: ٣٠
সুলায়মান (আ.) বাসমালাহ দ্বারা পত্র শুরু করেছিলেন। একইভাবে রাসূল ﷺ এর পত্রাবলীতেও বাসমালাহ রয়েছে।
«كتب رسول الله ﷺ إلى هرقل: بسم الله الرحمن الرحيم…» — صحيح البخاري، رقم: ٧
তাই প্রায় সব কিতাবেই উলামারা বাসমালাহ দিয়ে শুরু করেছেন। কিন্তু এটি সবসময় মুসান্নিফের ব্যক্তিগত লেখা নাকি নকলকারীদের স্বয়ংক্রিয় সংযোজন, সেটি যাচাই করা প্রয়োজন।
২. ব্যক্তিগত বাসমালাহ ও নকলকারীদের সংযোজন কিনা এই নিয়ে আলোচনা:
অনেক পুরোনো কিতাবের পাণ্ডুলিপিতে দেখা যায় যে নকলকারীরা (النسّاخ) নিজেরাই প্রথম লাইনে بسم الله যুক্ত করতেন। কারণ এটি ছিল একটি সম্মানসূচক বাক্য যা বইয়ের বরকতের জন্য রাখা হতো।
ইবনুস সালাহ (رح) এ সম্পর্কে বলেন—
«النسّاخ اعتادوا افتتاح الكتب بالبسملة، وربما لم تكن من وضع المصنِّف.» — علوم الحديث، ص ١١٢
অর্থাৎ: নকলকারীরা কিতাবের শুরুতে বাসমালাহ লিখে দিতেন, যদিও তা মুসান্নিফের মূল রচনার অংশ না-ও হতে পারে।
এ কারণে অনেক মুহাক্কিক (তাহকীককারী) বলেন, বাসমালাহ প্রায়শই মূল লেখকের অংশ নয়; বরং এটি একটি প্রচলিত প্রথা।
৩. উলামাদের বক্তব্য
- ইমাম সাখাবী (رح) বলেন :
«كثير من النسّاخ يضيفون البسملة في أوائل الكتب تيمناً بها.» — فتح المغيث، ج ١، ص ٥٠
অর্থাৎ নকলকারীরা তাবাররুকের জন্য বাসমালাহ যোগ করতেন। - ইমাম কাস্তালানী (رح):
«الأصل أن البسملة من تصنيف المؤلف، إلا إن دلّ التحقيق على إضافتها من غيره.» — لطائف الإشارات، ج ١، ص ٧
অর্থাৎ মূলত বাসমালাহ মুসান্নিফেরই, তবে প্রমাণ পেলে এটি নকলকারীদের সংযোজনও হতে পারে।
৪. أصول الشاشي সম্পর্কিত তাহকীক
এখন বিশেষভাবে أصول الشاشي কিতাবের ক্ষেত্রে দেখি। “أحسن الحواشي” এবং “كشف الأسرار”-এর শুরুতে মুসান্নিফের নামের আগে বাসমালাহ আছে। কিন্তু পুরনো পাণ্ডুলিপির মধ্যে বাসমালাহ নেই।
«وفي بعض النسخ لم توجد البسملة، مما يدل على أنها من زيادات النُّسّاخ.» — مقدمة أحسن الحواشي، ج ١، ص ٢
অর্থাৎ, কিছু নকল সংস্করণে বাসমালাহ নেই। তাই ধারণা করা যায়, বাসমালা হয়তো নকলকারীরা যুক্ত করেছেন।
তবে অন্য একটি মত হলো—
«الأقرب أن البسملة من وضع المصنِّف لأنه اقتداء بالنبي ﷺ.» — كشف الأسرار، ج ١، ص ٣
তাই দুইটি মত রয়েছে:
- মুসান্নিফ নিজে লিখেছেন।
- নকলকারীরা পরে যোগ করেছেন।
৫. রাজেহ মত
প্রিয় ছাত্ররা! গবেষণার আলোকে রাজেহ মত হলো:
- যেখানে প্রাচীন পাণ্ডুলিপিতে বাসমালাহ আছে, তা মুসান্নিফের।
- যেখানে প্রমাণ নেই, সেখানে এটি নকলকারীদের যোগকৃত।
«والتحقيق أن البسملة إن وجدت في أقدم النسخ فهي للمصنف، وإلا فهي من عادات النساخ.» — مقدمة التوضيح، ج ١، ص ٥
أصول الشاشي-এর ক্ষেত্রে অধিকাংশ প্রাচীন পাণ্ডুলিপিতে বাসমালা রয়েছে। সুতরাং এখানে বাসমালাহ মুসান্নিফেরই বলে ধরে নেওয়া রাজেহ।
মোটকথা,,,,
সুতরাং প্রিয় ছাত্ররা! أصول الشاشي-এর শুরুতে বাসমালাহ মূলত মুসান্নিফেরই, কারণ প্রাচীনতম কপি এবং শরাহ কিতাবগুলোতে বাসমালাহ পাওয়া যায়। তবে যেখানে এটি অনুপস্থিত, সেখানে এটি নকলকারীদের যোগকৃতও হতে পারে। তাই একজন গবেষককে সবসময় পাণ্ডুলিপি মিলিয়ে দেখা উচিত।
** بسم الله ও الحمد لله এর হাদীসসমূহের তাহকীকী আলোচনা
প্রিয় তালেব ইলম ভাইয়েরা! এখন পর্যন্ত আমরা জেনেছি কেন মুসান্নিফ أصول الشاشي কিতাবের শুরুতে بسم الله এবং الحمد لله এনেছেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়: আমরা যে দুইটি হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করলাম, সেগুলোর অবস্থা কী? সেগুলো কি সহীহ নাকি দুর্বল? এখন তোমাদের সামনে আমি এই হাদীসগুলোর পূর্ণ তাহকীক উপস্থাপন করবো।
১. হাদীস: «كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه ببسم الله فهو أبتر»
«كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه ببسم الله فهو أبتر.» — سنن ابن ماجه، رقم: 1894
হাদীসের অনুবাদ:
“যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ بسم الله দ্বারা শুরু না করলে তা বরকতহীন ও অপূর্ণ।”
হাদীসের সূত্রসমূহ:
- ইবন মাজাহ (1894)
- ইমাম বায়হাকী, شعب الإيمان (رقم: 8397)
- ইমাম দ্বারা কুতনী (১/৫৪)
মুহাদ্দিসীনের মতামত:
- ইমাম নববী (رح):
«حديث ضعيف باتفاق المحدثين.» — الأذكار، ص ٤
তিনি একে দুর্বল বলেছেন। - ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (رح):
«ضعيف، لكن يعمل به في فضائل الأعمال.» — فتح الباري، ١٠/٣٩٤
তিনি বলেছেন: দুর্বল হলেও ফযায়েলে এটি গ্রহণযোগ্য। - শায়েখ আলবানী (رح):
«إسناده ضعيف جداً.» — ضعيف الجامع، رقم: ٤৫৬٧
তাহকীকী ফলাফল:
এই হাদীসের সনদে إسماعيل بن عياش এবং عبد الله بن محمد এর মতো দুর্বল রাবী রয়েছে। এজন্য হাদীসটি মুতলাকভাবে সহীহ নয়, তবে উলামাদের মতে ফাযায়েলুল আমল-এ এটি ব্যবহারযোগ্য।
«العمل بالحديث الضعيف في الفضائل مجمع عليه عند جمهور العلماء.» — التوضيح والتلويح، ج ١، ص ٧
২. হামদালাহ দ্বারা কিতাব শুরু করার দলীল
الحمد لله দ্বারা কিতাব শুরু করার সরাসরি হাদীস নেই। তবে এটি কুরআন দ্বারা প্রমাণিত নীতি।
﴿الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ﴾ — الفاتحة: ٢
আল্লাহ নিজেই কুরআনকে الحمد لله দিয়ে শুরু করেছেন। তাই উলামারা কিতাব শুরুতে الحمد لله লেখা সুন্নাহ গণ্য করেছেন।
শরাহ কিতাবের বক্তব্য:
- أحسن الحواشي:
«ابتدأ بالحمدلة اقتداءً بالقرآن.» — أحسن الحواشي، ج ١، ص ٤
- كشف الأسرار:
«الحمد لله أصل كل شكر وافتتاح به سنة مقررة.» — كشف الأسرار، ج ١، ص ٢
ইখতেলাফ:
কিছু শাফেয়ী আলেম বলেছেন, কিতাব শুরুতে الحمد لله যথেষ্ট; তবে হানাফী উসূলবিদরা বলেন বাসমালাহ ও হামদালাহ উভয়ই একত্রে আনা উচিত।
৩. রাজেহ মত
রাজেহ মত হলো: بسم الله আগে, তারপর الحمد لله কারণ:
- রাসূল ﷺ এর চিঠিপত্রে বাসমালাহ আগে এসেছে।
- কুরআনের সূচনায় الحمد لله এসেছে, তাই উভয়কে একত্র করলে বরকত ও শুকর উভয়ই হয়।
«الجمع بين البسملة والحمدلة أتم وأفضل.» — شرح التنقيح، ص ٥
মোটকথা,,,,
প্রিয় তালেবে ইলম ভাইয়েরা! তোমরা এখন স্পষ্টভাবে বুঝতে পারলে— بسم الله সম্পর্কিত হাদীস দুর্বল হলেও তা ফাযায়েলে গ্রহণযোগ্য। আর الحمد لله কুরআনের মাধ্যমে শুরু করা,এটা প্রমাণিত ও সুন্নাহ। এজন্য মুসান্নিফ বাসমালাহ ও হামদালাহ একত্রে এনেছেন যেন ইলম বরকত ও শোকরের মাধ্যমে শুরু হয়।
الفصل الأول: التحليل اللغوي والفقهي لكلمة "بسم" في ضوء تفسير البيضاوي
১. ভূমিকা
মুসান্নিফগণ তাঁদের কিতাব "بسم الله الرحمن الرحيم" দ্বারা শুরু করার মধ্যে গভীর নাহভী, সরফী এবং ফিকহী তাৎপর্য রেখেছেন। বিশেষত تفسير البيضاوي তে ইমাম ناصر الدين البيضاوي (রহিমাহুল্লাহ) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন: إبتدأت بالبسملة تبركاً واستعانة بالله، واتباعاً للكتاب والسنة
(تفسير البيضاوي 1/35)। অর্থাৎ, বাসমালার বর্ণনায় তিনটি দিক বিবেচনা করতে হবে:
- نحوي ও صرفي দিক
- فقهي দিক
- إشاري (আধ্যাত্মিক) দিক
এখন আমরা ধাপে ধাপে প্রতিটি বর্ণ বিশ্লেষণ করবো।
২. "باء" (با) এর বিশ্লেষণ
"بـ" হল حرف جر।
- إمام البيضاوي বলেন:
الباء للإلصاق المجازي، أي أبتدئ متبركاً باسم الله
(تفسير البيضاوي 1/35)। - অন্যদিকে কুফা নাহভীরা এটিকে باء الاستعانة বলেন। অর্থাৎ "আল্লাহর সাহায্য নিয়ে কাজ শুরু করছি" (روح المعاني 1/47)।
- ক্বুরতুবী উল্লেখ করেন:
وهي باء التبرك أيضاً، لأن ذكر اسمه مفتاح كل خير
(الجامع لأحكام القرآن 1/95)।
باء এর নিচে كسرة (যের) কেন?
باء সর্বদা جارّ এবং এটি مجرور সৃষ্টি করে। এজন্য এর নিচে كسرة দেওয়া হয়েছে। ابن هشام বলেন: الأصل في الباء أن تجر ما بعدها، ولذلك لزمتها الكسرة
(مغني اللبيب 1/15)।
৩. "اسم" এর ব্যুৎপত্তি
"اسم" শব্দের মূল নিয়ে কুফা ও বসরার মধ্যে ইখতেলাফ রয়েছে:
- بصريون: তারা বলেন, এটি
سُمُو
(উচ্চতা) থেকে উদ্ভূত। নাম দ্বারা মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। البيضاوي-ও এই মতকে সমর্থন করেছেন:واسم الشيء ما به يرتفع في الذكر
(تفسير البيضاوي 1/36)। - كوفيون: তারা বলেন এটি
وَسْم
(চিহ্ন) থেকে এসেছে, কারণ নাম দ্বারা ব্যক্তি চিহ্নিত হয় (السيوطي، المزهر 1/275)।
روح المعاني (1/49) এ আল্লামা আলূসি বলেন: والراجح عند المحققين أنه من السمو، لأنه أدل على الرفعة
।
৪. همزة الوصل (আলিফ) এর অবস্থান
"اسم" শব্দের শুরুতে থাকা "همزة" হল همزة الوصل।
- جارّ حرف (باء) প্রবেশ করলে এটি উচ্চারণ থেকে বাদ যায়। যেমন: "بِسْمِ الله"।
- আলাদা করলে বলা হবে "اسم الله"।
ابن هشام (مغني 1/21) বলেন: إذا دخل حرف الجر على الاسم سقطت همزة الوصل تخفيفاً
।
৫. بسم এর ফিকহি প্রয়োগ
- حنيفة: বাসমালাহ পাঠ তাবারুক ও ইস্তিআনার জন্য মুস্তাহাব।
- شافعية: তারা বলেন, এটি সূরা ফাতিহার অংশ এবং সালাতে আবশ্যক (المجموع 3/295)।
- مالكية و حنابلة: তাদের মতে, এটি সূরার অংশ নয় কিন্তু তাবাররুক ও ইস্তিআনার জন্য পাঠ সুন্নত (المدونة 1/105, المغني 1/525)।
৬. بسم এর আধ্যাত্মিক দিক
ইমাম البيضاوي তাফসিরে লিখেছেন: البسملة شعار المؤمن، يفتتح بها أموره استعانةً بالله، وإظهاراً لافتقاره إليه
অর্থাৎ, বাসমালা শুধু নাহভী বা ফিকহি ইবারত নয়; এটি মুমিনের ঈমানি ঘোষণা।
৭. خلاصــة (সারসংক্ষেপ)
"بسم" শব্দের প্রতিটি অক্ষর গভীর নাহভী, সরফী এবং ফিকহি ইশারায় পূর্ণ।
- "باء" দ্বারা ইস্তিআনা, তাবারুরক ও ইলসাক প্রমাণিত হয়েছে।
- "اسم" দ্বারা আল্লাহর পরিচিতি এবং বান্দার দ্নবীদারির প্রকাশ ঘটেছে।
- همزة الوصل দ্বারা আরবি ভাষার সাবলীলতা ও প্রাঞ্জলতা ফুটে উঠেছে।
তাফসিরে البيضاوي এবং অন্যান্য উলামার আলোচনার ভিত্তিতে, بصري মতই রাজেহ কারণ এটি শব্দের মূল অর্থের সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ।
Comments
Post a Comment